জুড়ে তামা গলিয়ে এমন কামান তৈরি চলছে, আর বিদেশ থেকে কেনা হচ্ছে যুদ্ধের যত অস্ত্রশস্ত্র? কেন জাহাজ তৈরির কারিগরদের এভাবে জোরপূর্বক কাজে লাগানো হচ্ছে, যাদের অক্লান্ত শ্রমে রবিবার আর সপ্তাহের অন্য দিনগুলোর কোনো তফাত নেই? এমন কী ঘটতে চলেছে যে এই ঘর্মাক্ত তাড়াহুড়োয় রাতটাকেও দিনের মতো খাটুনির ভাগীদার করে তোলা হয়েছে? কে আছ, যে আমায় এই বিষয়ে জানাতে পারো?
হোরাশিও
তা আমিই পারি; অন্তত চারপাশে যে ফিসফাস বা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তা থেকে। আমাদের প্রয়াত মহারাজ—যার ছায়ামূর্তি এইমাত্র আমাদের সামনে দেখা দিল—তাঁকে নরওয়ের রাজা ফোর্টিনব্রাস তীব্র অহংকার আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার বশে দ্বৈরথ যুদ্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে আমাদের বীর হ্যামলেট—আমাদের এই চেনা পৃথিবী তো তাঁকে সেই নামেই পুজো করত—ফোর্টিনব্রাসকে বধ করেন। রাজকীয় ও আইনি সমস্ত নিয়ম মেনে সিলমোহর দেওয়া এক চুক্তি অনুযায়ী, ফোর্টিনব্রাস তাঁর প্রাণের সাথে সাথে নিজের দখলীকৃত সমস্ত ভূখণ্ড জয়ী রাজার হাতে সমর্পণ করতে বাধ্য হন।
এর বিপরীতে, আমাদের রাজাও সমপরিমাণ একখণ্ড জমি বাজি রেখেছিলেন; ফোর্টিনব্রাস যদি বিজয়ী হতেন, তবে চুক্তি অনুযায়ী সেই জমি তাঁর উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য হতো; ঠিক যেভাবে ওই চুক্তির শর্ত মেনে ফোর্টিনব্রাসের জমি চলে আসে হ্যামলেটের অধীনে। কিন্তু এখন শুনছি, তরুণ ফোর্টিনব্রাস—যাঁর রক্ত গরম আর কাঁচা তেজে টগবগ করছে—নরওয়ের সীমান্ত এলাকাগুলো থেকে একদল আইন অমান্যকারী, দুঃসাহসী জলদস্যু আর ভাড়াটে সৈন্য জড়ো করেছে।
…শুধুমাত্র দু-মুঠো অন্ন আর খাবারের বিনিময়ে তারা এমন এক ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে নামতে রাজি হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য আর কিছুই নয়—যা আমাদের রাজ্যের কাছেও এখন পরিষ্কার—গায়ের জোরে আর জবরদস্তিমূলক শর্ত চাপিয়ে আমাদের কাছ থেকে সেইসব জমিজমা উদ্ধার করা, যা তার বাবা যুদ্ধে হেরে খুইয়েছিলেন। আর আমার ধারণা, আমাদের এই তোড়জোড়ের মূল কারণ এটাই। এই কারণেই আমাদের এই রাত জাগা পাহারা, আর সারা দেশজুড়ে এমন হুলস্থুল আর তড়িঘড়ি যুদ্ধপ্রস্তুতি।
বার্নার্ডো
আমারও মনে হয় ব্যপারটা ঠিক তাই, অন্য কিছু নয়। এই অমঙ্গলসূচক ছায়ামূর্তি যে বর্ম পরে আমাদের পাহারার সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে—তা এই পরিস্থিতির সাথে হুবহু মিলে যায়; দেখতেও তো ঠিক সেই রাজার মতো, যিনি ছিলেন এই যুদ্ধবিগ্রহের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
হোরাশিও
চোখের ভেতরে পড়া একটা ধূলিকণার মতোই এটি আমাদের মনের শান্তি কেড়ে নিচ্ছে। রোম সাম্রাজ্যের সেই
