পড়াশোনা ফাঁকি দেওয়ার একটা বাতিক চেপেছিল, যুবরাজ।
হ্যামলেট
তোমার শত্রুর মুখেও আমি এমন কথা শুনতে রাজি নই; আর নিজের নামে এমন অপবাদ দিয়ে আমার কান দুটোকে এত বড় অন্যায় করতে বোলো না, যাতে তোমার নিজের বিরুদ্ধেই তোমার এই মিথ্যা কথা আমার কান বিশ্বাস করে বসে। আমি খুব ভালো করেই জানি, তুমি পড়াশোনা ফাঁকি দেওয়ার মতো ছেলে নও। কিন্তু এলসিনোরে তোমার কী কাজ? যাই হোক, এখান থেকে বিদায় নেওয়ার আগে তোমাকে ভালোমতো মদ্যপান করাটা আমরা শিখিয়েই ছাড়ব।
হোরাশিও
যুবরাজ, আমি আসলে আপনার বাবার শেষকৃত্য দেখতে এসেছিলাম।
হ্যামলেট
দোহাই তোমার, সহপাঠী বন্ধু আমার, আমাকে এভাবে উপহাস কোরো না। আমার তো মনে হয়, তুমি আসলে আমার মায়ের বিয়ের উৎসব দেখতে এসেছ!
হোরাশিও
তা সত্যি যুবরাজ, একটার পর আরেকটা ঘটনা খুব দ্রুতই ঘটে গেল।
হ্যামলেট
হিসেব, বুঝলে হোরাশিও, সব আসলে খরচের হিসেব! শ্রাদ্ধের বেঁচে যাওয়া বাসি আর ঠান্ডা মাংসগুলো দিয়েই তো বিয়ের টেবিলের ভোজ সাজানো হলো! হোরাশিও, জীবনের এই দিনটা দেখার আগে যদি স্বর্গের বুকে আমার পরম শত্রুর মুখোমুখি হতে হতো, সে-ও আমার জন্য অনেক ভালো ছিল!
আমার বাবা!—আমার কেমন যেন মনে হচ্ছে, আমি আমার বাবাকে দেখতে পাচ্ছি।
হোরাশিও
কোথায়, যুবরাজ?
হ্যামলেট
আমার মনের চোখে, হোরাশিও।
হোরাশিও
আমি ওঁকে একবার দেখেছিলাম; সত্যিই এক মহান ও সৌম্যরাজ পুরুষ ছিলেন তিনি।
হ্যামলেট
সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন এক প্রকৃত মানুষ; ওঁর মতো মানুষ আমি জীবনে আর কোনোদিন দেখতে পাব না।
হোরাশিও
যুবরাজ, আমার মনে হয় গত রাতে আমি ওঁকে দেখেছি।
হ্যামলেট
দেখেছ? কাকে?
হোরাশিও
মহারাজকে, আপনার স্বর্গীয় পিতাকে।
হ্যামলেট
আমার বাবা, রাজামশাইকে!
হোরাশিও
আপনার এই চরম বিস্ময়কে একটুখানি চেপে রেখে মন দিয়ে শুনুন; এই দুই ভদ্রলোকের সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে আমি এই অলৌকিক ঘটনাটি আপনার কাছে বর্ণনা করছি।
হ্যামলেট
ঈশ্বরের দোহাই, আমায় বলো, আমি শুনছি!
হোরাশিও
টানা দুই রাত ধরে এই দুই ভদ্রলোক, মার্সেলস আর বার্নার্ডো, যখন পাহারায় ছিলেন—ঠিক মাঝরাতে, যখন চারিদিক এক নিঝুম নিস্তব্ধতায় থমথম করছিল—তখন তাঁদের এই অভিজ্ঞতা হয়। হুবহু আপনার বাবার মতো দেখতে একটি অবয়ব, আপাদমস্তক সম্পূর্ণ যুদ্ধসাজে সজ্জিত হয়ে তাঁদের সামনে এসে দাঁড়ায়। অত্যন্ত গম্ভীর ও ধীর পদক্ষেপে, এক রাজকীয় ভঙ্গিতে সে তাঁদের
