সজল নয়নে কেবলই সে খোদার কাছে আরজ করতে লাগলো: হে রহমান, তুমি আমাকে দোজখ থেকে বেহেস্তে এনেছো। এখন আমাকে মেহেরবানি করে একবার ‘লওহে মহফুযে’ তুলে নাও।
খোদা তার আরজ মঞ্জুর করলেন। সেখানে গিয়েও খোদার নাম ছাড়া অন্য কিছুই মনের মধ্যে সে স্থান দিলো না-দিনরাত খোদার উপাসনায় একেবারে ডুবে রইলো। একদিন সে দেখতে পেলো ‘লওহে-মহফুযের’ এক জায়গায় লেখা রয়েছে, “একজন ফেরেস্তা ছয় লক্ষ বৎসর খোদার উপাসনা করিবার পরও যদি সে একটিবার খোদার আদেশ অমান্য করে, তা হলে সে চরম দুর্দশাপ্রাপ্ত হবে। তখন থেকে তার নাম হবে ইবলিশ।” আজাযিল ভয়ে কাঁপতে লাগলো! তার চোখ দিয়ে পানি ঝরতে লাগলো।
কোন দিকে তার হুঁশ নেই-ধীর স্থিরভাবে পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খোদার দরগায় আরজ করতে লাগলো।
এমনিভাবে পাঁচ লক্ষ বছর কেটে গেলো। একদিন খোদা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন আজাযিল, এখানে কেউ যদি আমার একটি মাত্র আদেশ অমান্য করে, তবে তাকে কি শাস্তি দেওয়া উচিত?
আজাযিল প্রত্যুত্তর করলো: কেউ যদি আপনার আদেশ অমান্য করে, তাহলে তাকে আপনার দরবার থেকে চিরদিনের জন্য দূর করে দেওয়া উচিত।
খোদা বললেন: বেশ কথা। তুমি এখানে ঐ কথাগুলি লিখে রাখ।
আজাযিল খোদার হুকুম পালন করলো!
তোমাদের হয়তো স্মরণ আছে, আল্লাহর নির্দেশে আজাযিল জিনবংশ গারত করবার পরে দুনিয়া খালি পড়ে থাকে। খোদার বোধ হয় খেয়াল হলো যে, তিনি জিনদের বদলে মানুষ দ্বারা দুনিয়া পূর্ণ করবেন। তিনি সে কথা ফেরেস্তাদের বললেন। তারা জবাব দিলোঃ হে পরোয়ারদিগার, একবার তুমি জিন, পয়দা করে ঠকেছো। তারা কেবল ঝগড়াঝাটি মারামারি করে দিন কাটিয়েছে। আবার এখন মানুষ সৃষ্টি করে ফ্যাসাদ বাড়িয়ে কি লাভ! আমরা তো তোমার এবাদতে মশৃগুল আছি।
খোদা, হেসে বললেন: দেখ ফেরেশতাগণ, আমি কি তোমাদের চেয়ে বেশি বুঝিনা।
এই কথা শুনে তারা খুব লজ্জা পেলো। তারা বিনয়ের সঙ্গে বললোঃ হে রহমানুর রাহিম। তোমার খেয়াল বুঝবার ক্ষমতা কারো নেই।
খোদাতা’লা হযরত আদমকে সৃষ্টি করবার ব্যবস্থা করলেন। তিনি দুনিয়া থেকে একমুষ্টি মাটি নিয়ে হযরত আদমের শরীর সৃষ্টি করবার হুকুম দিলেন এবং দেহের মধ্যে আত্মা প্রবেশ করবার পূর্বে মাটিটুকুকে বেহেস্তের একটা নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে দেবার ব্যবস্থা করলেন?
একদিন আজাযিল ফেরেস্তাদের সঙ্গে বেড়াতে বেড়াতে সেখানে এসে হাজির। আদমের চেহারা দেখে
