কোরানের গল্প

« <
/ 10
> »

দুনিয়ার উপরে নিয়ে এলেন। কিন্তু এত উন্নতি করেও সে খোদাকে ক্ষণকালের জন্যও ভুললো না। দিনরাত খোদার এবাদতে মশুল হয়ে রইলো। করুণাময় খোদাতা’লা এবার তাকে প্রথম আসমানে তুলে নিলেন।

। এমনিভাবে খোদাকে স্তবস্তুতিতে খুশী করে এক ধাপ এক ধাপ করে সে একেবারে আসমানে উঠতে লাগলো। এক এক আসমানে হাজার বছর করে সাত হাজার বছর ধরে আহার নেই, নিদ্রা নেই, দিনরাত কেবল রোজা আর নামাজ, নামাজ আর রোজা করে সে কাটালো। কোনো দিকে তার লক্ষ্য নেই, এক মনে এক প্রাণে খোদার উপাসনায় মণ্ডল হয়ে রইলো। খোদা তার ওপরে খুব খুশী হয়ে দোজখের না-পাক (অপবিত্র) জানোয়ারকে বেহেশতে আসবার অনুমতি দিলেন।

তাহলে তোমরা দেখছো, না-পাক জানোয়ারও নিজের সাধনার বলে কত উন্নতি করতে পারলো। কোথায় ছিলো আর কোথায় এলো। বেহেস্তে এসে তার মনে এতটুকু দেমাগ বা এতটুকু অহঙ্কার দেখা দিল না। ফেরেস্তাগণ যখন হাসিখুশী ও আমোদ-প্রমোদে রত থাকতো, তখন আজাযিল খোদার এবাদতে মগ্ন হয়ে থাকতো। মনে তার সুখ নেই-শান্তি নেই, চোখ দিয়ে কেবল ঝর-ঝর ধারায় পানি পড়তো। সে খোদার কাছে শুধু এই আরজ করতো: হে এলাহী আমিন, তোমার এবাদত বন্দেগী কিছুই করতে পারলাম না। আমার গোনাহ্ মাফ করো। আমি বেহেস্ত চাই না-আমি চাই তোমাকে।

এইরূপে বেহেস্তের আমোদ-আহলাদ, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য সমস্ত অগ্রাহ্য করে সে আরো হাজার বছর খোদার এবাদতে কাটিয়ে দিলো। এবার খোদাতা’লা তার ওপর অতিশয় সদয় হয়ে ফেরেস্তাদের সরদার করে বেহেস্তের খাজাঞ্চী করে দিলেন।

হলে কি হবে, তথাপি সে আল্লাহকে এক মুহূর্তের জন্যও ভুললো না। দিনরাত আল্লাহর নামে মশগুল হয়ে রইল, আর মাঝে মাঝে বেহেস্তের মিনারের ওপরে উঠে আল্লাহ্তা’লার উপাসনার উপকারিতা সম্বন্ধে ফেরেস্তাদের উপদেশ দিতে লাগলো। ফেরেস্তাগণ তার জ্ঞান ও বুদ্ধি দেখে নিজেদের মধে বলাবলি করতে লাগলো: আজাযিল খোদার অতিশয় পিয়ারা (প্রিয়)। যদি আমরা খোদার কাছে কখনো কোন প্রকার বেয়াদকি করে ফেলি, তাহলে তার সুপারিশে আমরা বেঁচে যাবো। খোদা তার কথা না শুনে পারবেন না। এমনই করে ফেরেস্তাদের মধ্যে মরতবা দিনে দিনে বেড়ে যেতে লাগলো। কিন্তু যার এত মরতবা তার আশা এখনো মিটলো না। এখনো খোদার এবাদত ছাড়া আর কোনো দিক লক্ষ্য নেই। নিরালায় বসে কেবল খোদার যিকির করতে লাগলো। এইরূপে আরো হাজার বছর কেটে গেলো।

« <
/ 10
> »