ফাঁসির সেল থেকে দেখা বাংলাদেশ

« <
/ 14
> »

হিসেবে যে গতিতে পড়ালেখা করে আসছিলাম, এই আন্দোলনের সংস্পর্শে না এলে হয়তো-বা আমার অন্যান্য সহপাঠীদের মতো কোনো চাকরিবাকরি ইত্যাদি করতাম; জীবনটা সম্পূর্ণ ভিন্নখাতেই প্রবাহিত হতো। ইসলামের যে শিক্ষা ইসলামী আন্দোলনের সাহচর্যে পেয়েছি, তাতে আমি সন্তুষ্ট। আল্লাহর সন্তোষ লাভই আমার জীবনের লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে এবং জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যেন আমাকে সেই হিদায়াতের ওপর টিকিয়ে রাখেন, এই আমার প্রার্থনা।

ইসলামী আন্দোলনের বদৌলতে আজ বাংলাদেশের ছাত্র-যুবকদের মধ্যে যে বিরাট কাফেলা গড়ে উঠেছে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বড়ো নিয়ামত। একতরফা মিথ্যা প্রচারণা ও বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে এই কাফেলা এগিয়ে চলেছে। আশা করা যায়, একদিন এরাই বাংলাদেশকে বদলে দেবে, ইনশাআল্লাহ। এই কাফেলায় শরিক থেকে আমি যতটুকু কাজ করতে পেরেছি, তার জন্য মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি।

ইসলামী আন্দোলন থেকেই আমি বুঝতে পেরেছি, আল্লাহর দাসত্ব ও বন্দেগির মধ্যেই মানবজাতির মুক্তি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন-

“হে মানবজাতি, তোমরা সেই আল্লাহর বন্দেগি করো, যিনি তোমাদের ও তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো বা মুক্তি পেতে পারো।” সূরা বাকারা: ২১

আল্লাহর ইবাদতই মানবজাতির মুক্তির রাজপথ, অন্য কোনো পথে মানবতার মুক্তি নেই।

যুবসমাজের মধ্যে ইসলামী জাগরণ: ইসলামী আন্দোলনের বড়ো অবদান

অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল-মাদরাসার ছাত্রসমাজের এক বৃহত্তর অংশ ইসলামী চেতনায় উজ্জীবিত। সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষালাভ করেও ইসলামের প্রতি তাদের আন্তরিকতা, দৃঢ়তা ও ঐকান্তিকতা জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি তারা উন্নত নৈতিক চরিত্র গঠন ও ইসলামী আদর্শের অনুশাসনে যেভাবে এগিয়ে এসেছে, তা বাংলাদেশে এক দৃশ্যমান বাস্তবতা। অধার্মিকতা বা ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ধর্মহীনতা, ধর্মদ্রোহিতা ও বস্তুবাদী ভোগবাদিতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ইসলামপন্থি ছাত্ররা যেভাবে সংগঠিত হয়েছে, তা ইসলামের দুশমনদের মধ্যে হৃৎকম্পন সৃষ্টি করেছে। সুনির্দিষ্ট গঠনমূলক কর্মসূচি, ইসলামের সর্বজনীন আদর্শের অন্তর্নিহিত শক্তি এবং সংশ্লিষ্ট ছাত্রদের অনুপম চরিত্র, কথা ও কাজের মিল ইত্যাদি কারণেই ইসলামপন্থি ছাত্ররা একটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।

যারা ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র অথবা ব্যক্তিতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করছে, তাদের কোনো ইতিবাচক আদর্শ ও কর্মসূচি নেই। রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি এবং ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবেই কাজ করছে তারা। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ক্ষমতা ও অস্ত্রের জোরে দখলদারত্বের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করাই এদের বৈশিষ্ট্য। এদের কর্মকাণ্ডকে

« <
/ 14
> »