বইটি শেষ করতে গিয়ে একধরনের আক্ষেপ পাঠকের মনে দানা বেঁধে উঠতে পারে যে, ২০০৮ সালের নির্বাচনের সাথে সাথে বইটি তার বয়ান বন্ধ করে ফেলেছে একেবারে হুট করে; সমাপ্তির কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই। এটা কেন হয়েছে, তা আমরা নিশ্চিত হতে পারি না। কেননা, স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশিত ছিল, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরে যে সময়কালটা তিনি মুক্ত ছিলেন, সে সময়কার বর্ণনা, জামায়াত নেতৃবৃন্দ ও তার গ্রেফতারি এবং বিচারের নামে তাদের ওপর যে অবিচার করা হয়েছে, তার বিবরণ তিনি দেবেন। কিন্তু তা না দিয়ে হঠাৎ করেই লেখাটি শেষ হয়ে গেছে। আর প্রতিটি পর্বে তিনি লেখার তারিখ উল্লেখ করলেও শেষ পর্বটির শেষে তারিখ উল্লেখ নেই। আগের পর্বের তারিখ লেখা ১৫ এপ্রিল, ২০১৪। তাহলে কি শেষের অংশটি কারাগার থেকে মিসিং? নাকি তিনি এর পরে লেখার মতো সুযোগ পাননি? মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে করা তার আপিল আবেদন ২০১৪ সালের ৬ এপ্রিল খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আপিল খারিজ হওয়ার কারণে তাঁর শাহাদাত
অনেকটা সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। প্রায় নিশ্চিত শাহাদাতের সামনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ এক বছর তিনি প্রতিটি দিন ও রাত অনিশ্চয়তার মধ্যে ফাঁসির সেলে কাটান। তখন কি তিনি লেখার পরিবর্তে তার রবের সাক্ষাৎলাভের আকাঙ্ক্ষায় ইবাদতে অধিক মনোযোগী হয়েছিলেন?
এর সবই আমাদের অনুমান। এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিতভাবে কিছুই জানি না। শুধু এটাই জানি, এই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে টানা এক বছর অপেক্ষমাণ থাকার পর ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের দিন বিকেলে তাকে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার অপশন দেওয়া হয়; জবাবে তিনি বলেন-“প্রাণের মালিক আল্লাহ। রাষ্ট্রপতি জীবন দেওয়ারও মালিক নন এবং নেওয়ারও মালিক নন যে, তার কাছে প্রাণভিক্ষা চাইব।”
২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল রাত সাড়ে দশটায় ফাঁসির মঞ্চে মুহাম্মদ কামারুজ্জামান শাহাদাতবরণ করেন। আর শাহাদাত তো এমন এক জীবনের সমাপ্তি, যা অগণন মানুষের প্রাণে প্রাণে সঞ্চার করে দেয় নতুন জীবন, নতুন হিম্মত, নতুন উদ্দীপনা। এ যেন জীবনের শেষ নয়; বরং অগণন জীবনের সূচনা।
মুহাম্মদ আবু সুফিয়ান
১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪
লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম
ইসলামী আন্দোলন আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়
স্কুলে অধ্যয়নকালে ইসলামী আন্দোলনের সাথে আমার পরিচয় ঘটে। আমি আমার শিক্ষক বা পিতা-মাতা থেকেও যে শিক্ষা পাইনি, ইসলামী আন্দোলন আমাকে সেই শিক্ষার সন্ধান দেয়। একজন মেধাবী ছাত্র
