স্লোগানসর্বস্ব একধরনের ‘রাজনৈতিক টাউটগিরি’ ছাড়া অন্য কিছু বলার সুযোগ নেই। এদের নেতৃত্বে মেধাহীন অস্ত্রধারী ক্যাডার ও অছাত্রদেরই প্রাধান্য। টেন্ডার ও চাঁদার ভাগ-বণ্টন এবং প্রভাব বিস্তারের জন্য এরা নিজেরাই সংঘাত ও খুনোখুনিতে জড়িয়ে পড়ে। প্রায়ই দেশের মানুষ সংবাদপত্রে ও টিভি চ্যানেলে এদের রাইফেল, বন্দুক, পিস্তল, রিভলবার, চাপাতি, রামদা হাতে দেখতে পান। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শান্তিকামী দেশবাসী তাদের ব্যাপারে হতাশ ও উদ্বিগ্ন।
পক্ষান্তরে ইসলামপন্থি ছাত্রদের সুশৃঙ্খল, সুশিক্ষা ও চরিত্র গঠনমূলক কার্যক্রম মানুষের হৃদয় জয় করছে। সাধারণ ছাত্রদের মধ্য থেকেই শক্তি সঞ্চয় করছে ইসলামপন্থি ছাত্রদের এই আন্দোলন। বাংলাদেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রধান কলেজগুলোই এর প্রমাণ। ছাত্রসমাজের মাঝে ইসলামের পক্ষে যে জাগরণের সূচনা হয়েছে, মেধাহীন ও অছাত্র নেতৃত্ব, অস্ত্রবাজ, টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও সমাজতন্ত্রের স্লোগানধারীদের পক্ষে তা প্রতিহত করা কোনোক্রমেই সম্ভব নয়।
ইসলামের শিক্ষা বাংলাদেশের মাটির গভীরে
বাংলাদেশের শতকরা প্রায় নব্বই ভাগ মানুষ মুসলমান। হজরত শাহজালাল, শাহ আমানত, শাহ মাখদুম, খানজাহান আলী, হাজী শরীয়তুল্লাহ রাহি.-এর স্মৃতিবিজড়িত এই বাংলাদেশ এক গৌরবময় ঐতিহ্যের অধিকারী। পীর-মাশায়েখ, আলেম-উলামা, মসজিদ-মাদরাসা, মক্তব-খানকাহর দেশ এই বাংলাদেশ। এ দেশের কৃষক-শ্রমিক, সাধারণ মানুষই নিজেদের অর্থ ও প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছে লক্ষ লক্ষ মসজিদ-মাদরাসা ও ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বন্দুক দিয়ে শক্তির জোরে এ দেশের জনগণের ওপর ইসলাম চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। ইসলামের মহত্ত্ব, মানবকল্যাণমুখিতা ও সর্বজনীন আদর্শের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এই জনপদে আমাদের পূর্বপুরুষরা ইসলাম গ্রহণ করেছেন দলে দলে। এ দেশের লক্ষ লক্ষ মসজিদে প্রতিদিন পাঁচবার আযানের ধ্বনি অনুরণিত হয়। বাংলাদেশের মাটি ও আলো-বাতাসের সাথে মিশে আছে ইসলাম। সুতরাং, ইসলামের শেকড় এ দেশের মানুষের হৃদয়ে, এ দেশের মাটির গভীরে।
(রাত ২:৩০ টা; ২ আগস্ট, ২০১৩)
পলাশির প্রান্তরে স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হলো
বদ্বীপ দেশ বাংলাদেশ। পলিমাটির দেশ বাংলাদেশ। খাল-বিল, হাওড়-নদীর দেশ বাংলাদেশ। সেন ও পাল বংশের রাজারা এই দেশ শাসন করেছেন অনেক দিন। ইখতিয়ারউদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির বঙ্গ বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলায় মুসলিম শাসনের যুগ শুরু হয়। মুসলিম শাসকরা চারশো বছরের বেশি সময় এ দেশ শাসন করেছেন পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় পর্যন্ত। মূলত স্বাধীন সুলতান বা শাসকরাই এ দেশ শাসন করেন।
পলাশিতে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ছিল একটি আঁতাঁত, ষড়যন্ত্র ও নীলনকশার ফসল। সেনাপতি মীর
