নিসার আলী তিতুমীর। বাংলার এই দামাল সন্তান নির্যাতিত কৃষকদের সংঘবদ্ধ করে এক অসাধারণ প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। যুবক বয়স থেকেই তিনি চাষিদের ওপর ইংরেজদের অত্যাচার লক্ষ করে আসছিলেন। ইংরেজরা চাষিদের নীল চাষ করতে বাধ্য করত এবং জোর করে তাদের সম্পত্তি নীল চাষের জন্য নিয়ে নিত। মুসলিম প্রজাদের দাড়ির ওপর ট্যাক্স ধার্য করা হয়েছিল। ব্রিটিশদের অনুগত হিন্দু জমিদাররা খাজনার জন্য গরিব-নিরীহ কৃষকদের ওপর অমানুষিক অত্যাচার চালাত। তখন কৃষিই ছিল মানুষের প্রধান জীবিকা।
উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের ওপরও ইংরেজরা চরম আঘাত হানে। মসলিন কাপড় ছিল বিশ্ববিখ্যাত। উপমহাদেশের মসলিন শাড়ি ও অন্যান্য কাপড়ের সাথে প্রতিযোগিতায় কেউ পারত না। এই শিল্পের মূলে ছিল কারিগরদের অসাধারণ নৈপুণ্য। মসলিন তাঁতশিল্প ধ্বংস করার জন্য ইংরেজরা উঠেপড়ে লাগে। এমনকি অনেক কারিগরের আঙুল কেটে দেওয়া হয়, যাতে মসলিন কাপড় বুননের কাজ করতে না পারে। মসলিন কাপড়ের কাজ এত নিপুণ ছিল যে, একটি দিয়াশলাই বাক্সে একটি শাড়ি পুরে রাখা যেত। কিন্তু বিশ্ববিখ্যাত এই মসলিনশিল্প ইংরেজরা ধ্বংস করে দেয়।
আমরা আলোচনা করছিলাম মীর নিসার আলী তিতুমীর সম্পর্কে। যুবক বয়সেই তিনি আরব দেশে যান হজ করতে। সেখানে তার সাক্ষাৎ হয় সৈয়দ আহমদ বেরলভির সাথে। তার কাছে ইসলাম সম্পর্কে কিছুদিন শিক্ষা গ্রহণ করে দেশে ফিরে আসেন তিতুমীর। দেশে প্রত্যাবর্তনের পর মীর নিসার আলী তিতুমীর ইংরেজদের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করার উদ্যোগ নেন। তার প্রচেষ্টায় সংগঠিত কৃষকদল বিরাট এক বাঁশের কেল্লা তৈরি করে। ইংরেজরা তার কার্যক্রম থামানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। তবে একপর্যায়ে বিশাল ইংরেজ সেনাবাহিনীর সাথে তিতুমীরের যুদ্ধ হয় এবং তিনি শহীদ হন। ইংরেজরা তিতুমীর ও তার অনুসারীদের দুর্ধর্ষ ডাকাত ও সন্ত্রাসী হিসেবে অপপ্রচার চালায়। এখন যেমন পশ্চিমারা মুসলমানদের সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করে, কয়েকশো বছর আগের চিত্রও তা-ই ছিল। তবে ইংরেজরা তিতুমীরের সাহসিকতা ও বীরত্বের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।
(রাত ১২:৩০ টা; ৩ আগস্ট, ২০১৩)
বালাকোটের শহীদদের কথা
মুজাদ্দিদে আলফেসানি, শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভি, সৈয়দ আহমদ শহীদ বেরলভি, শাহ ইসমাইল, শাহ আবদুল আজিজ রাহি, প্রমুখ মনীষী ধারাবাহিকভাবে উপমহাদেশে মুসলিম গণজাগরণ আন্দোলন গড়ে তোলেন।
সৈয়দ আহমদ বেরলভি ছিলেন এক অসাধারণ বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব। তিনি যে মুজাহিদ আন্দোলন গড়ে তোলেন, তা আমাদের বাংলাদেশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ছিলেন
