রাখা হয়, যাদের নামের তালিকা পড়তে পড়তে আপনার চোখ ক্লান্ত হয়ে আসবে।’ অথচ দুর্ভাগ্য হলো, ইতিহাসে আলেমদের এসব সংগ্রামী ভূমিকার ঘটনা উল্লেখ করা হয় না।
স্বাধীনতার পথপরিক্রমায় আমাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। এ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিসরে ধারণা লাভ করতে চাইলে মুহাম্মদ আবদুল মান্নান রচিত মুক্তি সংগ্রামের মূলধারা পাঠ করা যেতে পারে।
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের অন্তরালে
ইংরেজরা বন্দুকের টোটায় শূকর ও গরুর চর্বি ব্যবহার শুরু করে, যা সিপাহিদের দাঁত দিয়ে কামড়িয়ে খুলতে হতো। এ কথা জানাজানি হওয়ার পর প্রথমে মুসলিম সিপাহিরা এই টোটা ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানায় এবং পরে হিন্দু সিপাহিরা মুসলিমদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়। এ ব্যাপারে ইংরেজরা সেই টোটা প্রত্যাহারের পরিবর্তে অন্যায়ভাবে চাপ সৃষ্টি করলে পরিস্থিতি বিস্ফোরণোন্মুখ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিদ্রোহ শুরু হয়।
বাংলা থেকেই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে। ইংরেজ অফিসারদের ওপর সিপাহিরা ঝাঁপিয়ে পড়ে। সেনাছাউনিগুলো সিপাহিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে থাকে। এরপর তা দ্রুতগতিতে সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। হিন্দু-মুসলিম, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই বিদ্রোহে শামিল হয়। সব শ্রেণির ভারতবাসীই এই সংগ্রামে জড়িয়ে পড়ে।
ব্রিটিশ দখলদার শাসনের বিরুদ্ধে ভেতরে ভেতরে যে ক্ষোভ জমা হয়েছিল, সিপাহি বিদ্রোহ ছিলই তারই বিস্ফোরণ। যেহেতু এটা তেমন কোনো পরিকল্পিত বিদ্রোহ ছিল না, তাই ব্রিটিশ সৈন্যবাহিনী বিদ্রোহ দমনে সক্ষম হয়। সিপাহি বিদ্রোহে রাজিয়া সুলতানা, ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈয়ের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা আমরা ইতিহাসেই পেয়েছি। কিন্তু ইতিহাসে বাংলার যুবক-তরুণদের ভূমিকার কথা খুব কমই স্থান পেয়েছে। অথচ তাদের ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল এবং ত্যাগ ছিল বিশাল। সিপাহি বিদ্রোহের পর বিশেষ করে বাংলায় সিপাহিরা পাইকারি হারে চাকরিচ্যুত হয়। ঘটনাক্রমে বাংলার বিপুলসংখ্যক মুসলিম যুবক সিপাহির চাকরি নিয়ে গোটা ভারত ছড়িয়ে ছিল। সিপাহি বিপ্লবের পর চাকরি হারিয়ে তারা যখন ঘরে ফিরে আসে, তখন এক করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয়। বেকার সিপাহিদের পরিবারগুলো নিদারুণভাবে আর্থিক অনটনে পড়ে যায়। ফলে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, সিপাহি বিদ্রোহের পেছনে মুখ্য কারণ ছিল ধর্মীয়। টোটায় শূকর ও গরুর চর্বি ব্যবহার করার কারণে তা দাঁত দিয়ে কামড়িয়ে ছিঁড়তে হতো বলে ধর্মপ্রাণ সিপাহিরা তা প্রত্যাখ্যান করার ফলেই বিদ্রোহের সূচনা হয়। সামগ্রিকভাবেই ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে ধর্মের ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা।
তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা
মীর
