করে। উচ্চতর সরকারি পদে ইংরেজরাই থাকত এবং নিম্নপর্যায়ে কাজ চালানোর জন্য দেশীয় কেরানি তৈরি করার জন্যই লর্ড ম্যাকলের নেতৃত্বে এই শিক্ষানীতি চালু করা হয়।
ভারতবর্ষ ছিল বিশাল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীন একটি উপনিবেশ। দখলদার শক্তি হিসেবে ইংরেজরা ভারত শাসন ও শোষণ করে এখানকার সম্পদ পাচার করে ব্রিটেনে পাঠাতে থাকে। বিশেষ করে মুসলমানদের অবস্থা ক্রমান্বয়ে শোচনীয় হতে থাকে। রাজ্য হিসেবে আমাদের এই বাংলাদেশ ছিল সম্পদশালী ও সমৃদ্ধ। উইলিয়াম হান্টার দি ইন্ডিয়ান মুসলমান গ্রন্থটিতে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেন-আগে মুসলমানদের মধ্যে দরিদ্র ও অশিক্ষিত কোনো লোক পাওয়া ছিল কঠিন। কিন্তু ইংরেজ শাসনামলে মুসলমানরা দরিদ্র ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে।
পূর্বেই উল্লেখ করেছি, বিশেষ করে বাংলা প্রদেশটি অর্থনৈতিকভাবে অনেক সমৃদ্ধ ছিল। বলা হতো-মাঠভরা ফসল, গোলাভরা ধান, গোয়ালভরা গরু, পুকুরভরা মাছ; এই ছিল বাংলার অবস্থা। ইংরেজদের বিশেষ আনুকূল্যে বাংলায় হিন্দু জমিদারদের দ্বারা মুসলমানরা নিগৃহীত হতে থাকে। ওদিকে ইংরেজরা কৃষকদের নীল চাষে বাধ্য করে জুলুম-নির্যাতন চালায়। ফলে কৃষকদের মধ্যে ক্রমান্বয়ে ইংরেজবিরোধী মনোভাব দৃঢ় হতে থাকে।
বিশেষ করে বাংলা প্রদেশ যে এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল, তার বিস্তৃতি ছিল বার্মার সীমান্ত থেকে আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, উড়িষ্যা-বিহার ও বর্তমান পশ্চিম বাংলাসহ বিশাল এলাকা। এই গোটা এলাকা সিরাজউদ্দৌলার শাসনের অধীনে ছিল। এই অঞ্চলের জনগণ শতাব্দীর পর শতাব্দী সংগ্রাম করেই নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছে। তাদেরকে সংগ্রাম করতে হয়েছে আর্য ও উগ্রবাদী ব্রাহ্মণ্যশক্তির বিরুদ্ধে। শক, হুন, ওলন্দাজ, পর্তুগিজ, ফরাসি ও সর্বশেষ ইংরেজ দখলদারের বিরুদ্ধে। এই অঞ্চলের মানুষের আজাদির সংগ্রাম শতাব্দীর পর শতাব্দী পর্যন্ত চলে এসেছে। ফকির বিদ্রোহ, সন্ন্যাস বিদ্রোহ, কৃষক বিদ্রোহ, ফরায়েজি আন্দোলন ও মুজাহিদ আন্দোলন থেকে নিয়ে পাকিস্তান আন্দোলন পর্যন্ত এ সংগ্রামের পথ ছিল খুবই দীর্ঘ। ইংরেজ শাসনের একশো বছরের মাথায় ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ ছিল ভারতবর্ষের হিন্দু-মুসলিমদের সম্মিলিত স্বাধীনতা আন্দোলনের এক বড়ো মাইলফলক।
ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম সোচ্চার হন উপমহাদেশের সংগ্রামী আলেমসমাজ। মূলত আলেমরাই গ্রামগঞ্জের মানুষদের ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে জাগরিত করেন। ফলে ইংরেজরা তাদের গ্রেফতার করতে থাকে। বিপুলসংখ্যক আলেমকে ইংরেজরা বন্দি করে এবং তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে দ্বীপান্তর করে আন্দামানের কারাগারে পাঠানো হয়। তাদের অনেকে সেখানেই শাহাদাতবরণ করেন। আন্দামান পরিদর্শন করতে গিয়ে একজন ঐতিহাসিক লিখেছেন-‘এখানে এত বিপুলসংখ্যক প্রখ্যাত আলেমকে বন্দি করে
