পবিত্রতার বিভ্রম

« <
/ 19
> »

করে যে তারা আল্লাহর খুব নিকটবর্তী, অথচ বাস্তবপক্ষে তারা তাঁর বাণীর মূল উদ্দেশ্য থেকে যোজন যোজন দূরে অবস্থান করছে।

 

এই কিতাব রচনার উদ্দেশ্য ধার্মিক ব্যক্তিদের আক্রমণ করা নয়, বরং ধর্মীয় জীবনাচারকে তার নিজস্ব ভুল থেকে রক্ষা করা। এটি একনিষ্ঠ বিশ্বাস কীভাবে রুগ্ণ আচরণে পর্যবসিত হয় এবং যে ধর্ম মানুষকে মুক্ত করতে এসেছিল, তা কীভাবে মানুষের আত্মাকে হরণ করার শিকল হয়ে দাঁড়ায়—তা বোঝার একটি প্রচেষ্টা মাত্র। আমরা এখানে কেবল চারিত্রিক স্খলন নিয়ে কথা বলছি না, বরং আধ্যাত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিচ্যুতি নিয়ে আলোচনা করছি; যেখানে একজন মানুষ নিজেকে সরল পথে (সিরাত-এ-মুস্তাকীম) আছে বলে মনে করলেও বাস্তবে সে সম্পূর্ণ উল্টো পথে হাঁটতে থাকে। আজ যখন ধর্মীয় স্লোগান, প্রতীক আর আনুষ্ঠানিকতার ছড়াছড়ি, তখন আমাদের সেই আদি প্রশ্নে ফিরে যাওয়া অনিবার্য হয়ে পড়েছে: প্রকৃত ধার্মিক হওয়ার অর্থ কী?

 

ধর্মের ঝাণ্ডা তুলে ধরা প্রত্যেকেই কি ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করে? ধর্মের বিপক্ষে গিয়ে বিচ্যুতি ঘটার চেয়ে কি ধর্মের নামে বিচ্যুতি ঘটা বেশি বিপজ্জনক নয়? ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বড় বড় অনেক বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক অপরাধ সত্যের নামেই সংঘটিত হয়েছে। যারা নবীদের হত্যা করেছে কিংবা সমাজ সংস্কারকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, তারা কেউ নাস্তিক বা ধর্মত্যাগী ছিল না; বরং তারা তাদের নিজস্ব ধরনে ‘ধার্মিক’ ছিল। প্রত্যেক নবীকেই এই ধরনের মানুষের মোকাবিলা করতে হয়েছে।

 

মূসা (আ.) এমন এক কওমের মোকাবিলা করেছিলেন, যারা ধর্মের নামেই বাছুর পূজা শুরু করেছিল।

 

ঈসা (আ.) তাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যারা ঐশী বিধানকে কঠোর ধর্মীয় ক্ষমতায় রূপান্তর করেছিল।

 

মুহাম্মাদ (সা.) তাদের মোকাবিলা করেছিলেন, যারা মনে করত ঈমান হলো কেবল কণ্ঠ চড়িয়ে আওয়াজ তোলা, পবিত্র হৃদয়ের উপলব্ধি নয়।

 

ধর্মের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ নাস্তিকতা নয়, বরং সচেতনতাহীন ধর্মীয় উন্মাদনা। কারণ নাস্তিক সরাসরি ধর্মকে প্রত্যাখ্যান করে, কিন্তু বিকৃতমনা ধার্মিক ধর্মের রক্ষার নামেই তাকে ভেতর থেকে কুরে কুরে হত্যা করে। এই বিচ্যুতি ধর্মের বাইরে থেকে আসে না, বরং ভেতর থেকেই শুরু হয়—যখন লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমটিই স্বয়ং লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, যখন প্রতীকগুলো প্রতিমায় রূপ নেয়, যখন ফিকহ হয়ে পড়ে স্থবির আর ইবাদত হয়ে যায় কেবল লোকদেখানো লৌকিকতা। যখন শরীয়তকে তার মূল আত্মা থেকে, বিবেককে

« <
/ 19
> »