পবিত্রতার বিভ্রম

« <
/ 19
> »

নিয়েছে। অনেক সময় মানুষ মনে করে যে, আল্লাহর নৈকট্য লাভ কেবল কিছু বাহ্যিক অবয়ব, সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিত্ব কিংবা বিশেষ কোনো স্থানের ওপর নির্ভরশীল। অথচ প্রকৃত নৈকট্য নিহিত রয়েছে নেক আমল এবং বিশুদ্ধ নিয়তের মাঝে।

আহলে বাইত (আ.) এই বিচ্যুতি সম্পর্কে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। তাঁরা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, প্রকৃত পবিত্রতা কেবল আচার-সর্বস্ব আনুষ্ঠানিকতা কিংবা বাহ্যিক বেশভূষায় অর্জিত হয় না; বরং তা অর্জিত হয় জ্ঞান (মারেফাত), সৎকর্ম এবং তাকওয়ার মাধ্যমে। আমীরুল মুমিনীন আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন—

“لَيْسَ الصَّوْمُ مَنْ صَامَ وَتَرَكَ الطَّعَامَ، وَلَكِنَّ الصَّوْمَ مَنْ صَامَ عَنِ الْمَعَاصِي”

“কেবল পানাহার ত্যাগ করাই সিয়াম বা রোজা নয়; বরং প্রকৃত রোজা হলো পাপাচার থেকে বিরত থাকা।”

এই উক্তিটি স্পষ্ট করে দেয় যে, আধ্যাত্মিকতা কোনো বাহ্যিক বিষয় নয়, বরং এটি নৈতিক উৎকর্ষ এবং ঐশী মূল্যবোধের প্রতি দায়বদ্ধতার এক নিরন্তর সংগ্রাম। একইভাবে ইমাম জাফর আস-সাদিক (রহ.) গুরুত্বারোপ করেছেন যে, আল্লাহর নৈকট্য নিয়ত ও কর্মের সাথে যুক্ত, সামাজিক মর্যাদা বা আলঙ্কারিক প্রতীকের সাথে নয়। তিনি বলেন—

“مِنْ أَعْظَمِ قُرْبِ اللَّهِ أَنْ تُطَهِّرَ قَلْبَكَ مِنَ الْحِقْدِ وَالْبُغْضِ وَتَعْمَلَ بِالْعَدْلِ وَالْحَقِّ”

“আল্লাহর সবচেয়ে বড় নৈকট্য হলো তুমি তোমার অন্তরকে হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে পবিত্র রাখবে এবং ন্যায় ও সত্যের ওপর আমল করবে।”

এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় যে, অন্তঃসারশূন্য আধ্যাত্মিকতার দোহাই দিয়ে যে ‘নকল পবিত্রতা’ জাহির করা হয়, তা আসলে এক বিভ্রম মাত্র, যা মানুষের আত্মিক বিকাশে চরম বাধা সৃষ্টি করে।

সুতরাং, আধ্যাত্মিকতার ক্ষেত্রে এই পবিত্রতার বিভ্রমকে ব্যবচ্ছেদ করার অর্থ ধর্ম বা আধ্যাত্মিক অনুভূতিকে অস্বীকার করা নয়; বরং বাহ্যিক রূপ থেকে এর মূল সারবস্তুকে এবং অবয়ব থেকে এর আত্মাকে পৃথক করে চেনা। এর মূল উদ্দেশ্য হলো—আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক যেন কেবল লোকদেখানো আনুষ্ঠানিকতায় আটকে না থেকে গভীর জ্ঞান ও সচেতনতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।

অন্যদিকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান (শি‘আর), যা মূলত আধ্যাত্মিকতা বৃদ্ধি এবং ব্যক্তি ও সমাজের আত্মিক জীবনকে সুশৃঙ্খল করার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম; সেগুলোও অনেক সময় নিছক জড় প্রতীকে পরিণত হতে পারে। এটি তখনই ঘটে, যখন এই আচারগুলোকে আত্মিক উন্নতির ‘মাধ্যম’ হিসেবে না দেখে স্বয়ং ‘লক্ষ্য’ হিসেবে গণ্য করা হয়। অনেক সময় দেখা যায়,

« <
/ 19
> »