আদ-দু‘আ

« <
/ 54
> »

যেন পুড়িয়ে ছাই করে প্রবল বাতাসের দিনে উড়িয়ে দেওয়া হয়। যখন তাকে সমবেত করা হলো, আল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন— ‘হে আমার বান্দা! কেন তুমি এমনটি করলে?’ সে আরজ করল— ‘হে রব! আমার চেয়ে বড় পাপিষ্ঠ ও অবাধ্য আর কেউ ছিল না। তাই আপনার আজাবের ভয়েই আমি এমনটি করেছিলাম (যাতে আমাকে আর খুঁজে পাওয়া না যায়)।’ তখন আল্লাহ বললেন— ‘আমার এই বান্দাকে তোমরা ক্ষমা করে দাও।’ অতঃপর তাকে ক্ষমা করা হলো।”

১৪৯. পাপিষ্ঠদের জন্য সুপারিশ

আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম ﷺ ইরশাদ করেছেন:

«جُعِلَتِ الشَّفَاعَةُ لِأَهْلِ الْكَبَائِرِ مِنْ أُمَّتِي»

অর্থাৎ: আমার উম্মতের মধ্যে যারা কবিরা গুনাহ বা বড় পাপে লিপ্ত হয়েছে, তাদের জন্যই আমার শাফায়াত বা সুপারিশ নির্ধারিত।

১৫০. কষ্টের বিনিময়ে পাপ মোচন

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম ﷺ ইরশাদ করেছেন: “একজন মুমিনের গায়ে যদি একটি কাঁটার সামান্য আঘাতও লাগে কিংবা তার চেয়ে বড় কোনো কষ্ট তাকে স্পর্শ করে, তবে এর বিনিময়ে আল্লাহ তার আমলনামা থেকে একটি করে পাপ মুছে দেন।”

১৫১. মুসা (আ.) ও কালিমার ওজন

কাসিম ইবনে আবদুর রহমান (রহ.) থেকে বর্ণিত: মুসা (আ.) আল্লাহর দরবারে আরজ করলেন, “হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এমন একটি আমল দান করুন যাতে আমার শরীর ক্লান্ত-বিধ্বস্ত হয়ে যায়, যেন আপনার দেওয়া অশেষ নেয়ামতের প্রকৃত শোকরিয়া আদায় হয়।” আল্লাহ বললেন, “তুমি বলো— ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির’।”

মুসা (আ.) শরীরকে আরও বেশি নিংড়ে দেয় এমন কোনো কঠিন পরিশ্রমের আমল করতে চাচ্ছিলেন। তিনি পুনরায় বললেন, “হে প্রভু! আমাকে এমন কোনো আমল দিন যাতে আপনার সন্তুষ্টির জন্য আমার দেহ ক্ষয় হয়ে যায়।” তখন তাকে বলা হলো, “হে মুসা! যদি সাত আসমান ও সাত জমিন পাল্লার এক পাশে রাখা হয় আর অন্য পাশে কেবল ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ রাখা হয়, তবে কালিমার পাল্লাই ভারি হবে। এমনকি এই সাত আসমান ও সাত জমিনকে যদি একত্রিত করে একটি পিণ্ড বানানো হয়, তবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ‘-এর মহিমা তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে সরাসরি আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যাবে।” এ কথা শুনে মুসা (আ.) ক্ষান্ত হলেন।

১৫২. সকালের আমল ও

« <
/ 54
> »