আদ-দু‘আ

« <
/ 54
> »

বলেছেন— “বনী ইসরাঈলে ‘কিফল’ নামক এক ব্যক্তি ছিল, যে কোনো পাপ করতেই দ্বিধা করত না। একবার সে এক নারীকে ষাট দিনার দিয়ে এই শর্তে রাজি করাল যে, সে তাকে দেহদান করবে। কিন্তু যখন সে ওই নারীর অতি কাছে এল, তখন নারীটি থরথর করে কাঁপতে লাগল এবং কাঁদতে শুরু করল। কিফল জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কাঁদছ কেন? আমি কি তোমাকে বাধ্য করেছি?’ নারীটি বলল, ‘না, কিন্তু আমি কখনো এমন জঘন্য কাজ করিনি। কেবল চরম অভাব ও পেটের দায় আমাকে আজ এখানে নিয়ে এসেছে।’

এ কথা শুনে কিফল বলল, ‘যাও, এই অর্থ তোমারই থাক (আমি তোমাকে স্পর্শ করব না)।’ এরপর সে দৃঢ়ভাবে সংকল্প করল— ‘আল্লাহর কসম! আমি আর কখনোই তাঁর নাফরমানি করব না।’ কাকতালীয়ভাবে সেই রাতেই কিফল মারা গেল। পরদিন সকালে দেখা গেল তার দরজায় কুদরতিভাবে লেখা রয়েছে: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কিফলকে ক্ষমা করে দিয়েছেন’।”

১৪৭. দয়া ও ক্ষমার শর্ত

উমর (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেছেন—

«إِنَّ اللَّهَ لَا يَرْحَمُ مَنْ لَا يَرْحَمُ، وَلَا يَغْفِرُ لِمَنْ لَا يَغْفِرُ، وَلَا يَتُوبُ عَلَى مَنْ لَا يَتُوبُ»

অর্থাৎ: নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর দয়া করেন না যে অন্যকে দয়া করে না; তাকে ক্ষমা করেন না যে অন্যকে ক্ষমা করে না; এবং তার তওবা কবুল করেন না যে তওবা করে না।

১৪৮. উদারতা ও খোদাভীতির প্রতিদান

হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত: আল্লাহ তাঁর এক বান্দাকে (কিয়ামতের দিন) উপস্থিত করে জিজ্ঞেস করবেন, “তুমি দুনিয়ায় কী আমল করেছ?” বান্দাটি বলবে, “হে প্রভু! আপনার জন্য আমি অণুপরিমাণ নেক আমলও করিনি।” এভাবে সে তিনবার বলবে। শেষে সে বলবে, “হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে প্রচুর ধন-সম্পদ দিয়েছিলেন। আমি মানুষের সাথে ব্যবসা করতাম। আমার স্বভাব ছিল মানুষের প্রতি উদারতা দেখানো। আমি অভাবগ্রস্তকে ছাড় দিতাম এবং ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে সময় দিতাম।” তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন— “আমি তোমার চেয়েও বেশি উদারতার হকদার; আমার এই বান্দাকে তোমরা ক্ষমা করে দাও।” অতঃপর তাকে জান্নাত দান করা হলো। আবু মাসউদ (রা.)-ও সাক্ষ্য দিলেন যে তিনি নবীজি ﷺ-এর পবিত্র মুখ থেকে ঠিক এমনটিই শুনেছেন।

হুজাইফা (রা.) আরও একটি ঘটনা বর্ণনা করলেন— “এক ব্যক্তি তার পরিবারকে ওসিয়ত করেছিল যে, সে মারা গেলে তাকে

« <
/ 54
> »