আদ-দু‘আ

« <
/ 54
> »

পরম দাতা, মহানুভব, মহিমান্বিত ও অমুখাপেক্ষী। আমি যা ইচ্ছা তা-ই করি। আমার দান কেবল একটি ‘বাণী’ (হুকুম) এবং আমার শাস্তিও কেবল একটি ‘বাণী’। আমি যখন কোনো কিছু করতে চাই, কেবল বলি— ‘হও‘, আর অমনি তা হয়ে যায়।”

১৩১. ঘরোয়া আচরণে ত্রুটি ও ইস্তিগফারের মহৌষধ

হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি আরজ করলাম— “হে আল্লাহর রাসুল! পরিবারের লোকদের সাথে কথা বলার সময় আমার জিহ্বায় কিছুটা রূঢ়তা বা তিক্ততা চলে আসে।” রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন— “তবে তুমি ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করো না কেন? আমি তো দিনে এত এতবার (প্রচুর পরিমাণে) আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি।”

১৩২. পাপের ভার ও তওবায় আল্লাহর আনন্দ

হারিস ইবনে সুয়াইদ (রাহ.) থেকে বর্ণিত: আমি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-কে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে গেলাম। তিনি তখন নবীজি ﷺ থেকে একটি এবং নিজের পক্ষ থেকে একটি হাদিস শোনালেন। তিনি বললেন— “একজন মুমিন তার করা পাপগুলোকে এমনভাবে দেখে যেন সে এক বিশাল পাহাড়ের পাদদেশে বসে আছে এবং ভয় পাচ্ছে যে এই পাহাড়টি বুঝি এখনই তার ওপর ধসে পড়বে। আর একজন পাপাচারী তার পাপগুলোকে দেখে নাকের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া একটি মাছির মতো—সে কেবল হাত দিয়ে এমন (মাছি তাড়ানোর ইশারা) করে দেয়।”

অতঃপর তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর এই হাদিসটি বর্ণনা করলেন— “আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দার তওবায় সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি আনন্দিত হন—যে এক জনমানবহীন ভয়ংকর মরুভূমিতে সফরের সময় নিজের সওয়ারি (উট) হারিয়ে ফেলেছে। ওই উটের পিঠেই ছিল তার যাবতীয় খাবার ও পানীয়। ক্লান্ত হয়ে সে মাথা নিচু করে ঘুমিয়ে পড়ল। যখন তার ঘুম ভাঙল, দেখল তার সওয়ারি উধাও। সে অনেক খোঁজাখুঁজি করল, এমনকি তৃষ্ণায় যখন সে মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে গেল, তখন ভাবল— ‘বরং আমি আগের জায়গায় ফিরে যাই এবং সেখানেই শুয়ে শুয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করি।’ সে আগের স্থানে ফিরে এসে শুয়ে পড়ল এবং তার একটু তন্দ্রা এল। কিন্তু ঘুম ভাঙতেই সে সবিস্ময়ে দেখল—তার সেই সওয়ারি উটটি সমস্ত খাবার ও পানীয়সহ তার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে!” (বান্দা তওবা করলে আল্লাহ এর চেয়েও বেশি খুশি হন।)

১৩৩. প্রকৃত জ্ঞান ও মিথ্যাচারের লক্ষণ

হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেছেন, “কোনো মানুষের প্রকৃত জ্ঞানী হওয়ার জন্য এটুকুই

« <
/ 54
> »