হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আমার কুপ্রবৃত্তি বা মনের কুমন্ত্রণা এবং আমার আমলের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।”
আল্লাহ বললেন, “হে মুসা! তোমার দোয়া কবুল করা হয়েছে।” এরপর মুসা (আ.) জিজ্ঞেস করলেন, “হে প্রভু! আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয় কাজ কোনটি?” আল্লাহ বললেন, “তুমি আমাকে ডাকবে এবং কখনো আমাকে ভুলে যাবে না।” মুসা (আ.) আবার জিজ্ঞেস করলেন, “কোন বান্দার আমল শ্রেষ্ঠ?” আল্লাহ বললেন, “যার জিহ্বা কখনো মিথ্যা বলে না, যার অন্তরে পাপ নেই এবং যে ব্যভিচার থেকে নিজের চরিত্র রক্ষা করে।”
মুসা (আ.) অবাক হয়ে বললেন, “হে প্রভু! প্রলোভন এড়িয়ে মিথ্যা না বলে থাকা কার পক্ষে সম্ভব?” তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, “এরপরে কার আমল সবচাইতে ভালো?” আল্লাহ বললেন, “সেই মুমিন, যে সুন্দর চরিত্রের অধিকারী।” মুসা (আ.) পুনরায় জানতে চাইলেন, “কার আমল সবচাইতে নিকৃষ্ট?” আল্লাহ বললেন, “সেই দুশ্চরিত্র ব্যক্তি, যার অন্তরে পাপ বাসা বেঁধেছে।” মুসা (আ.) বললেন, “সবচেয়ে জঘন্য আমলকারী কে?” আল্লাহ বললেন— “যে রাতে পড়ে থাকে নিথর লাশের মতো (ইবাদতহীন), আর দিনে অলস সময় পার করে।”
১০৩. আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বৈশিষ্ট্য
মিসাম (রাহ.) থেকে বর্ণিত: মুসা (আ.) যখন তুর পাহাড়ে আল্লাহর সাথে কথোপকথন করছিলেন, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয় বান্দা কে?” আল্লাহ বললেন, “যে আমাকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করে।” মুসা (আ.) বললেন, “সর্বশ্রেষ্ঠ বান্দা কে?” আল্লাহ বললেন, “সেই আলেম, যে ইলম বা জ্ঞান অন্বেষণে রত থাকে।” মুসা (আ.) বললেন, “সবচেয়ে ধৈর্যশীল কে?” আল্লাহ বললেন, “যে নিজের ক্রোধ হজম করতে পারে।” মুসা (আ.) বললেন, “সবচেয়ে সহনশীল কে?” আল্লাহ বললেন— “যে রাগের মাথায় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।”
১০৪. জিকিরের মজলিস ও মহান রবের ঘোষণা
ওমর ইবনে যর (রাহ.) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন: রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর একদল সাহাবীর কাছে এলেন, যাদের মাঝে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.) ছিলেন এবং তিনি সবাইকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন। নবীজিকে ﷺ দেখে তিনি চুপ হয়ে গেলে রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তোমার বন্ধুদের নসিহত করতে থাকো।” ইবনে রাওয়াহা আরজ করলেন, “হে আল্লাহর রাসুল! আমার চেয়ে আপনিই এর বেশি হকদার।” নবীজি ﷺ বললেন— “তোমরাই তো সেই লোক, যাদের সাথে ধৈর্য ধরে বসে থাকতে আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন।” অতঃপর
