الْأَرْضِ، وَمِلْءَ مَا شَاءَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ»
বঙ্গানুবাদ: ‘আসমান-জমিন পূর্ণ করে এবং এরপর আপনি যা ইচ্ছা করেন তা পূর্ণ করে আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আসমান-জমিন পূর্ণ করে এবং এরপর আপনি যা ইচ্ছা করেন তা পূর্ণ করে আপনার প্রশংসা করছি। আসমান-জমিন পূর্ণ করে এবং এরপর আপনি যা ইচ্ছা করেন তা পূর্ণ করে আপনার মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করছি’।”
১০১. জ্ঞানের মজলিস ও বংশগৌরবের অসারতা
হারুন ইবনে আনতারা (রাহ.) থেকে বর্ণিত: তাঁর পিতা ইবনে আব্বাস (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, “কোন আমলটি সর্বশ্রেষ্ঠ?” তিনি তিনবার বললেন— “আল্লাহর জিকিরই সর্বশ্রেষ্ঠ।” এরপর তিনি আরও বললেন— “যখনই কিছু মানুষ আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো একটি ঘরে (মসজিদে) সমবেত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে এবং তা নিয়ে পরস্পরে আলোচনা করে, তখন তারা আল্লাহর মেহমান হয়ে যায়। ফেরেশতারা তাদের ডানার ছায়ায় তাদের আগলে রাখে এবং যতক্ষণ তারা অন্য কোনো পার্থিব আলোচনায় লিপ্ত না হয়, ততক্ষণ তারা আল্লাহর যিয়ারতকারী (দর্শনপ্রার্থী) হিসেবে গণ্য হয়।
আর যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণের পথে পা বাড়ায়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। মনে রেখো, যাকে তার আমল পিছিয়ে দিয়েছে, তার বংশগৌরব তাকে এগিয়ে দিতে পারবে না।”
১০২. তুর পাহাড়ে মুসা (আ.) ও মহান রবের কথোপকথন
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত: মুসা (আ.) যখন সিনাই পর্বতে আল্লাহর অতি সান্নিধ্যে পৌঁছালেন, তখন তিনি আরশের ছায়ায় একজন বান্দাকে উপবিষ্ট দেখলেন। মুসা (আ.) জিজ্ঞেস করলেন, “হে আমার প্রতিপালক! এই ব্যক্তি কে?” আল্লাহ তাঁর নাম বা পরিচয় প্রকাশ না করে বললেন— “এ এমন এক বান্দা, যে আল্লাহর দেওয়া অনুগ্রহের কারণে মানুষকে হিংসে করে না, মা-বাবার প্রতি সদাচারী এবং কখনো পরনিন্দা বা চোগলখুরি করে বেড়ায় না।”
অতঃপর আল্লাহ বললেন, “হে মুসা! তুমি কীসের অন্বেষণে এসেছ?” মুসা (আ.) বললেন, “আমি হেদায়েত বা সঠিক পথের সন্ধানে এসেছি।” আল্লাহ বললেন, “তুমি তা পেয়েছ, হে মুসা।” তখন মুসা (আ.) প্রার্থনা করলেন—
«اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا خَلَا مِنْ ذَنْبِي، وَمَا غَبَرَ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَسْوَسَةِ نَفْسِي، وَمِنْ شَرِّ عَمَلِي»
বঙ্গানুবাদ: “হে আল্লাহ! আমার অতীতের এবং ভবিষ্যতের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন—যে গুনাহগুলো সম্পর্কে আপনি আমার চেয়েও বেশি অবগত।
