তিনি আল-কুরআনের এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন— ‘আর আপনি নিজেকে ওই সব লোকদের সাথে ধৈর্য সহকারে রাখুন, যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের প্রতিপালককে ডাকে…’ [কাহাফ: ২৮]।
এরপর রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তোমরা যতজনই এক জায়গায় বসে আল্লাহর জিকির করো না কেন, তোমাদের সমান সংখ্যক ফেরেশতা তোমাদের সাথে বসে যান। তোমরা যখন আল্লাহর প্রশংসা (আলহামদুলিল্লাহ) করো, তারা তখন তোমাদের সাথে প্রশংসা করেন; তোমরা যখন তাঁর পবিত্রতা (সুবহানাল্লাহ) বর্ণনা করো, তারা তখন তাসবিহ পাঠ করেন; তোমরা তাকবির (আল্লাহু আকবার) বললে তারাও তাকবির বলেন এবং তোমরা ক্ষমা চাইলে (আস্তাগফিরুল্লাহ) তারা তাতে ‘আমীন’ বলেন।
অতঃপর তাঁরা আল্লাহর দরবারে আরোহণ করলে আল্লাহ—সবকিছু জানা সত্ত্বেও—তাদের জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমরা কোথা থেকে এলে?’ তারা বলেন, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! জমিনের একদল বান্দার কাছ থেকে এলাম, তারা আপনাকে স্মরণ করছিল তাই আমরাও আপনাকে স্মরণ করেছি।’ আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, ‘তারা কী বলছিল?’ ফেরেশতারা বলেন, ‘তারা আপনার প্রশংসা করছিল।’ আল্লাহ তখন বলেন— ‘আমিই প্রথম যার ইবাদত করা হয় এবং আমিই শেষ যার প্রশংসা করা হয়।’ ফেরেশতারা বলেন, ‘তারা আপনার তাসবিহ পাঠ করছিল।’ আল্লাহ বলেন— ‘আমার মহিমা ও প্রশংসা আমি ছাড়া আর কারো জন্য শোভা পায় না।’ ফেরেশতারা বলেন, ‘তারা আপনার বড়ত্ব ঘোষণা করছিল।’ আল্লাহ বলেন— ‘আসমান ও জমিনের সকল শ্রেষ্ঠত্ব ও বড়ত্ব কেবল আমারই; আর আমিই মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ ফেরেশতারা বলেন, ‘তারা আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছিল।’ আল্লাহ তখন ঘোষণা করেন— ‘আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিলাম।’ ফেরেশতারা তখন নিবেদন করেন, ‘হে আমাদের রব! সেই মজলিসে তো অমুক অমুক লোকও (অন্য কোনো উদ্দেশ্যে) ছিল।’ আল্লাহ তখন বলেন— ‘ওরা এমন এক দল, যাদের সাথে বসা কোনো ব্যক্তিও হতভাগ্য বা বঞ্চিত হয় না।’”
১০৫. জিকিরের আরোহণ ও ফেরেশতাদের প্রার্থনা
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত: “যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং সুবহানাল্লাহ’ পাঠ করে, একজন ফেরেশতা তা নিয়ে আকাশের দিকে আরোহণ করেন। তিনি ফেরেশতাদের যে দলকেই অতিক্রম করেন, তারা ওই জিকির পাঠকারীর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। এভাবে এই জিকির জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর মহান দরবার পর্যন্ত পৌঁছে যায়।”
১০৬. প্রিয়তম প্রার্থনা ও জঘন্যতম আচরণ
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত:
