বলতেন, “তোমরা কথা বলা ও কাজের ক্ষেত্রে এই সাতটি বিষয়কে কেন আঁকড়ে ধরো না? তা হলো— সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার; আর সৎ কাজের আদেশ দেওয়া, অসৎ কাজ থেকে বাধা দেওয়া এবং আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করা ও অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া।”
৯৩. জিকিরের সওয়াব ও সামাজিক অপরাধের সতর্কতা
ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম ﷺ ইরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি ‘সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার’ বলবে—আল্লাহ তায়ালা তার প্রতিটি বাক্যের বিনিময়ে দশটি করে নেকি দান করবেন এবং জান্নাতে তার মর্যাদা দশ গুণ বৃদ্ধি করে দেবেন। যে আরও বেশি বলবে, আল্লাহ তাকে আরও বাড়িয়ে দেবেন।
আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ডবিধির (হুদুদ) পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে, সে যেন আল্লাহর আদেশের বিরোধিতা করল। যে ব্যক্তি কোনো মিথ্যা বিবাদে জড়াল কিংবা মিথ্যা মামলা-মোকদ্দমায় কাউকে সহযোগিতা করল, সে নিষ্কৃতি না পাওয়া পর্যন্ত আল্লাহর ক্রোধের মধ্যে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কোনো মুমিন নর-নারীর নামে না জেনে অপবাদ দিল বা গিবত করল, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন ‘রাদগাতুল খাবাল’ (জাহান্নামিদের দেহ থেকে নিঃসরিত পুঁজ ও রক্তের কর্দমাক্ত স্থান)-এ বন্দি করে রাখবেন, যতক্ষণ না সে তার কৃতকর্মের দায় থেকে মুক্ত হতে পারে—অথচ সেখান থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়।”
৯৪. ফেরেশতাদের দোয়া ও জিকির
মুসআব ইবনে সাদ (রাহ.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলতেন, “বান্দা যখন বলে ‘সুবহানাল্লাহ‘, তখন ফেরেশতা বলেন ‘ওয়া বিহামদিহি’ (এবং সকল প্রশংসা তাঁরই)। আর যখন বান্দা পূর্ণাঙ্গভাবে বলে ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি‘, তখন ফেরেশতারা সেই বান্দার জন্য আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে।”
৯৫. অফুরন্ত রহমত লাভের উপায়
আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত: “বান্দা যখন বলে— ‘আলহামদুলিল্লাহি কাসীরা’ (আল্লাহর জন্য অগণিত প্রশংসা), তখন ফেরেশতা আরজ করেন, ‘হে প্রভু! আমি এটি কীভাবে লিপিবদ্ধ করব?’ আল্লাহ বলেন, ‘তুমি তার আমলনামায় আমার অফুরন্ত রহমত লিখে দাও।’ আবার যখন বান্দা বলে— ‘আল্লাহু আকবার কাবিরা’ (আল্লাহ মহান ও শ্রেষ্ঠ), তখন ফেরেশতা একইভাবে জিজ্ঞেস করেন। আল্লাহ তখনও বলেন, ‘তুমি তার আমলনামায় আমার অগণিত রহমত লিখে দাও’।”
৯৬. আল্লাহর পছন্দের চারটি শ্রেষ্ঠ বাণী
মুজাহিদ (রাহ.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য চারটি বাক্য পছন্দ
