কিন্তু কিয়ামতের দিন মিজানের পাল্লায় তা অনেক ভারী হবে এবং করুণাময় আল্লাহর কাছেও তা অত্যন্ত প্রিয়। বাক্য দুটি হলো— ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ (আল্লাহ পবিত্র এবং সকল প্রশংসা তাঁরই) এবং ‘সুবহানাল্লাহিল আজিম’ (মহিমান্বিত আল্লাহ পরম পবিত্র)।”
৮৪. জিকিরের মজলিস ও কিয়ামতের আক্ষেপ
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেছেন, “যখনই কোনো দল একত্রে বসে আল্লাহর জিকির করে, আল্লাহ তায়ালা তার চেয়েও বেশি সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ এক মাহফিলে (ফেরেশতাদের মাঝে) তাদের কথা উল্লেখ করেন। আর যে দল কোনো মজলিসে বসে আল্লাহর নাম না নিয়েই উঠে যায়, কিয়ামতের দিন তাদের জন্য তা কেবল আক্ষেপ ও আফসোসের কারণ হবে।”
৮৫. সুসময়ে আল্লাহকে স্মরণের সুফল
সালমান আল-ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, “যদি কোনো ব্যক্তি সুসময়ে ও সচ্ছল অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাঁর প্রশংসা করে, তবে পরবর্তীতে যখন সে বিপদে পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করে, তখন ফেরেশতারা বলে— ‘এ তো এক অতি পরিচিত কণ্ঠস্বর, কোনো এক দুর্বল বান্দার।’ এরপর তারা তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি সুসময়ে আল্লাহকে স্মরণ করে না, সে বিপদে পড়ে দোয়া করলে ফেরেশতারা বলে— ‘এ তো এক অপরিচিত ও অচেনা কণ্ঠস্বর’।”
৮৬. কঠিন বিপদ ও শাসকের ক্রোধ থেকে মুক্তির দোয়া
হাসান ইবনুল হাসান (রাহ.) থেকে বর্ণিত: আবদুল্লাহ ইবনে জাফর (রা.) তাঁর মেয়ের বিয়ে দেওয়ার সময় নির্জনে তাকে ডেকে কিছু কথা বললেন। পরবর্তীতে আমি সেই মেয়ের সাথে দেখা করে জিজ্ঞেস করলাম, “তোমার বাবা তোমাকে কী বলেছিলেন?” সে বলল, আমার বাবা আমাকে বলেছিলেন— “হে প্রিয় কন্যা! যখন তোমার সামনে মৃত্যু উপস্থিত হয় কিংবা এমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যা তোমাকে আতঙ্কিত করে তোলে, তখন তুমি এই বাক্যগুলো পাঠ করো—
«لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ، سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ»
বঙ্গানুবাদ: ‘পরম সহনশীল ও মহানুভব আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। মহান আরশের অধিপতি আল্লাহ পরম পবিত্র। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।’
অতঃপর আমি যখন (নিষ্ঠুর শাসক) হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সামনে উপস্থিত হলাম, তখন এই দোয়াটি পাঠ করলাম। হাজ্জাজ আমাকে দেখে বলল— ‘তুমি যখন আসছিলে, তখন আমি তোমার গর্দান নেওয়ার সংকল্প করেছিলাম। অথচ
