তখনও অনেক বাকি এবং পুরো মসজিদে আমি ছাড়া আর কেউ নেই। আমি নামাজে দাড়ালাম, হঠাৎ পেছন থেকে কারো নড়াচড়ার শব্দ পেলাম। আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গেলাম। তখন এক অদৃশ্য কণ্ঠস্বর আমাকে লক্ষ্য করে বলল:
‘হে ভয়াতুর ব্যক্তি! ভয় পেও না, ঘাবড়ানোর কিছু নেই। তুমি শুধু বলো—
اللَّهُمَّ إِنَّكَ مَلِيكٌ مُقْتَدِرٌ، وَإِنَّ مَا تَشَاءُ مِنْ أَمْرٍ يَكُنْ
অনুবাদ: হে আল্লাহ! আপনিই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী একচ্ছত্র অধিপতি; আপনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই সংঘটিত হয়।’
এরপর তুমি যা খুশি আল্লাহর কাছে চাও।”
সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব বলেন, “এরপর থেকে আমি এই দোয়া পড়ে আল্লাহর কাছে যা-ই চেয়েছি, তিনি তা-ই কবুল করেছেন।”
৭২. ইখলাস ও নেক আমলের উসিলায় মুক্তি
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম ﷺ ইরশাদ করেছেন: “প্রাচীনকালে তিন ব্যক্তি পথ চলছিল। হঠাৎ বৃষ্টির কবলে পড়ে তারা পাহাড়ের এক গুহায় আশ্রয় নিল। অমনি পাহাড় থেকে এক বিশাল পাথর খসে পড়ে গুহার মুখটি একেবারেই বন্ধ হয়ে গেল। তারা একে অপরকে বলল, ‘নিজেদের করা এমন কোনো শ্রেষ্ঠ আমলের কথা চিন্তা করো, যা তোমরা একান্তই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করেছিলে। সেই আমলের উসিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো; হয়তো তিনি আমাদের এই বিপদ থেকে মুক্তি দেবেন এবং পাথরটি সরিয়ে দেবেন’।”
প্রথম ব্যক্তির প্রার্থনা:
তাদের একজন হাত তুলে আরজ করল—
“হে আল্লাহ! আপনি জানেন, আমার এক চাচাতো বোন ছিল যাকে আমি প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতাম। আমি তার সাথে লিপ্ত হতে চাইলে সে রাজি হলো না; বরং শর্ত দিল যে আমি যদি তাকে একশত স্বর্ণমুদ্রা এনে দিই তবেই সে রাজি হবে। আমি হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে সেই অর্থ সংগ্রহ করে তাকে এনে দিলাম। কিন্তু যখনই আমি তার অতি সন্নিকটে গেলাম, সে থরথর করে কাঁপতে শুরু করল এবং কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘হে আল্লাহর বান্দা! আল্লাহকে ভয় করো। ন্যায়সংগত অধিকার (বিয়ে) ছাড়া এই মোহর নষ্ট করো না।’ অমনি আমি আল্লাহর ভয়ে সেখান থেকে উঠে দাঁড়ালাম এবং সেই স্বর্ণমুদ্রাগুলোও তাকে দিয়ে দিলাম। হে মাবুদ! আপনি যদি জানেন যে আমি কেবল আপনার ভয়েই এই কাজ থেকে বিরত হয়েছিলাম, তবে আমাদের জন্য এই পাথরটি একটু সরিয়ে দিন যাতে আমরা আকাশ দেখতে পাই।” (তখন পাথরটি
