একটু সরে গেল এবং তারা আকাশ দেখতে পেল।)
দ্বিতীয় ব্যক্তির প্রার্থনা:
দ্বিতীয় জন আরজ করল—
“হে আল্লাহ! আপনি জানেন আমার বৃদ্ধ বাবা-মা ছিলেন এবং আমার ছোট ছোট সন্তানও ছিল। আমি সারাদিন পশু চরাতাম এবং রাতে ফিরে দুধ দোহন করে আগে আমার বাবা-মাকে পান করাতাম, তারপর সন্তানদের দিতাম। এক রাতে ফিরতে দেরি হওয়ায় দেখি বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়েছেন। আমার সন্তানরা ক্ষুধার জ্বালায় আমার পায়ের কাছে চিৎকার করে কাঁদছিল, কিন্তু আমি বাবা-মাকে জাগানো অপছন্দ করলাম এবং তাদের আগে সন্তানদের দুধ দেওয়াও সমীচীন মনে করলাম না। আমি দুধের পাত্র হাতে নিয়ে তাদের শিয়রে সারারাত দাঁড়িয়ে রইলাম। ভোরে যখন তারা জাগলেন এবং দুধ পান করলেন, তারপর আমি সন্তানদের দুধ দিলাম। হে আল্লাহ! আপনি যদি জানেন যে আমি কেবল আপনার সন্তুষ্টির জন্যই এটি করেছিলাম, তবে আমাদের জন্য এই পাথরটি আরও একটু সরিয়ে দিন।” (পাথরটি আরও একটু সরে গেল।)
তৃতীয় ব্যক্তির প্রার্থনা:
তৃতীয় ব্যক্তি আরজ করল—
“হে আল্লাহ! আপনি জানেন আমি একজন শ্রমিক নিয়োগ করেছিলাম। কাজ শেষে তাকে মজুরি দিতে চাইলে সে তা তুচ্ছ মনে করে না নিয়ে চলে যায়। আমি তার সেই মজুরিটুকু বিনিয়োগ করলাম এবং তা দিয়ে অনেকগুলো গাভী ও পালের জন্ম হলো। অনেক বছর পর সেই শ্রমিক ফিরে এসে বলল, ‘হে আল্লাহর বান্দা! আমার মজুরিটুকু দিন।’ আমি পালের দিকে ইশারা করে বললাম, ‘ঐ যে গাভীগুলো আর রাখাল দেখছ, ওগুলো নিয়ে যাও।’ সে বলল, ‘আল্লাহকে ভয় করুন, আমার সাথে ঠাট্টা করবেন না!’ আমি বললাম, ‘আমি ঠাট্টা করছি না, ওগুলো সত্যিই তোমার।’ তখন সে খুশিমনে সব নিয়ে চলে গেল। হে মাবুদ! আপনি যদি জানেন যে আমি কেবল আপনার ভয়েই এই আমানত রক্ষা করেছিলাম, তবে আমাদের এই পাথরটি পুরোপুরি সরিয়ে দিন।”
নবীজি ﷺ বলেন, “তখন পাথরটি পুরোপুরি সরে গেল এবং তারা মুক্ত হয়ে হেঁটে চলে গেল।”
৭৩. উমর (রা.)-এর সতর্ক প্রার্থনা
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি প্রায়ই আল্লাহর দরবারে এই বলে আরজি পেশ করতেন—
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ تَأْخُذَنِي عَلَى غِرَّةٍ، أَوْ أَنْ تَذَرَنِي فِي غَفْلَةٍ، أَوْ تَجْعَلَنِي مِنَ الْغَافِلِينَ»
বঙ্গানুবাদ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই—আপনি যেন আমাকে অপ্রস্তুত অবস্থায় পাকড়াও না
