বা গোত্রপ্রীতির অন্তর্ভুক্ত?” তিনি বললেন: “হ্যাঁ।” (মান: য‘ঈফ)
পরিচ্ছেদ: কোনো ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা (হিজরত)
৩৯৭. হযরত আয়েশা (রা.)-এর ভাগ্নে আউফ ইবনুল হারিস (রহ.) থেকে বর্ণিত— হযরত আয়েশা (রা.) কোনো একটি দান বা বিক্রয় করেছিলেন, সে সম্পর্কে তাঁর বোনপো আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.) মন্তব্য করলেন, “আল্লাহর কসম! আয়েশা হয় এটি থেকে বিরত হবেন, না হয় আমি তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করব (সম্পদ ব্যয়ের অধিকার কেড়ে নেব)।”
হযরত আয়েশা (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, “সে কি সত্যিই এই কথা বলেছে?” লোকজন বলল, “হ্যাঁ।” তখন আয়েশা (রা.) বললেন: “আল্লাহর নামে মানত করছি যে, আমি ইবনে জুবায়েরের সাথে কখনো কথা বলব না।”
দীর্ঘদিন কথা বলা বন্ধ থাকলে ইবনে জুবায়ের (রা.) মুহাজিরদের মাধ্যমে সুপারিশ পাঠালেন। কিন্তু আয়েশা (রা.) বললেন, “আমি কারো সুপারিশ শুনব না এবং আমার মানত ভঙ্গ করব না।” নিরূপায় হয়ে ইবনে জুবায়ের (রা.) বনু জুহরা গোত্রের মিসওয়ার ইবনে মাখরামা এবং আবদুর রহমান ইবনে আসওয়াদ (রা.)-এর সাহায্য চাইলেন। তিনি তাঁদের বললেন, “আমি আপনাদের আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, আপনারা আমাকে আয়েশা (রা.)-এর কাছে নিয়ে যান। আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার মানত করা তাঁর জন্য বৈধ নয়।”
মিসওয়ার ও আবদুর রহমান (রা.) তাঁদের চাদর দিয়ে ইবনে জুবায়েরকে ঢেকে আয়েশা (রা.)-এর ঘরের দরজায় গিয়ে অনুমতি চাইলেন: “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, আমরা কি প্রবেশ করতে পারি?” আয়েশা (রা.) বললেন, “প্রবেশ করো।” তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, “আমরা সবাই?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ, সবাই।” আয়েশা (রা.) জানতেন না যে তাঁদের সাথে ইবনে জুবায়েরও আছেন।
ভেতরে ঢুকেই ইবনে জুবায়ের (রা.) পর্দার আড়ালে চলে গেলেন এবং আয়েশা (রা.)-কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে অনুনয় করতে লাগলেন। মিসওয়ার ও আবদুর রহমান (রা.)-ও সুপারিশ করে বললেন, “আপনি তো জানেন নবীজী ﷺ তিন দিনের বেশি কথা বন্ধ রাখা নিষেধ করেছেন।” তাঁরা বারবার বোঝানোর পর আয়েশা (রা.) কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “আমি তো মানত করে ফেলেছি, আর মানত পূরণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ।” শেষ পর্যন্ত তাঁদের অনুরোধে তিনি ইবনে জুবায়েরের সাথে কথা বললেন এবং তাঁর মানতের কাফফারা হিসেবে চল্লিশজন গোলাম আজাদ করলেন। পরবর্তীতে যখনই তিনি এই মানতের কথা স্মরণ করতেন, এতো কাঁদতেন যে তাঁর ওড়না চোখের পানিতে ভিজে
