আদাবুল মুফরাদ

« <
/ 122
> »

তোমাদের মাঝে তোমাদের চরিত্রকে সেভাবেই বণ্টন করেছেন যেভাবে তিনি তোমাদের রিযিক বণ্টন করেছেন। আল্লাহ সম্পদ তাকেও দেন যাকে তিনি ভালোবাসেন এবং তাকেও দেন যাকে তিনি ভালোবাসেন না। কিন্তু ঈমান কেবল তাকেই দেন যাকে তিনি ভালোবাসেন। সুতরাং যে ব্যক্তি সম্পদ খরচ করতে কৃপণতা করে, শত্রুর সাথে জিহাদ করতে ভয় পায় এবং রাত জেগে ইবাদত করতে কষ্ট অনুভব করে— সে যেন বেশি বেশি করে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার’ পাঠ করে।” (মান: সহীহ)

পরিচ্ছেদ: মনের উদারতা

২৭৬. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ এরশাদ করেছেন: “প্রচুর ধন-সম্পদ থাকলেই ধনী হওয়া যায় না, বরং অন্তরের ধনীই (তুষ্টি) হলো প্রকৃত ধনী।” (মান: সহীহ)

২৭৭. হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত— তিনি বলেন: “আমি একটানা দশ বছর নবী করীম ﷺ-এর সেবা করেছি। তিনি আমাকে কোনোদিন ‘উফ’ (বিরক্তিবাচক শব্দ) পর্যন্ত বলেননি। আমি কোনো কাজ না করলে তিনি বলেননি— ‘কেন করলে না?’ আবার কোনো কাজ করলে তিনি বলেননি— ‘কেন করলে?‘” (মান: সহীহ)

২৭৮. হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত— তিনি বলেন: নবী করীম ﷺ অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন। কেউ তাঁর কাছে কিছু চাইলে তিনি তাকে প্রতিশ্রুতি দিতেন এবং তাঁর কাছে কিছু থাকলে তা তখনই পূরণ করতেন। একবার নামাজের ইকামত হয়ে গিয়েছিল, এমতাবস্থায় এক গ্রাম্য লোক এসে তাঁর কাপড় টেনে ধরে বলল, “আমার সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়ে গেছে, আমি ভয় পাচ্ছি যে ভুলে যাব।” নবীজী ﷺ নামাজে না দাঁড়িয়ে ওই লোকটির সাথে গিয়ে তার প্রয়োজন মিটিয়ে দিলেন, তারপর এসে নামাজ পড়লেন। (মান: হাসান)

২৭৯. হযরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত— তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে কোনো কিছু চাওয়া হয়েছে আর তিনি ‘না’ বলেছেন—এমনটি কখনো ঘটেনি।” (মান: সহীহ)

২৮০. আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.) থেকে বর্ণিত— তিনি বলেন: “আমি আয়েশা ও আসমা (রা.)-এর চেয়ে বেশি দানশীল কোনো নারী দেখিনি। তবে তাঁদের দানের পদ্ধতি ছিল ভিন্ন। আয়েশা (রা.) অল্প অল্প করে জিনিস জমা করতেন এবং যখন অনেক হতো তখন তা বণ্টন করে দিতেন। আর আসমা (রা.) আগামীকালকের জন্য কোনো কিছুই জমা করে রাখতেন না (যা আসত আজই দান করে দিতেন)।” (মান: সহীহ)

পরিচ্ছেদ: কৃপণতা

২৮১. হযরত আবু হুরায়রা (রা.)

« <
/ 122
> »