আদাবুল মুফরাদ

« <
/ 122
> »

যার সন্তান মারা গেছে তার ফযিলত

১৪৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন: “যে কোনো মুসলিমের যদি তিনটি সন্তান (নাবালেগ অবস্থায়) মারা যায়, তবে তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না; কেবল কসম পূর্ণ করার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু ছাড়া (অর্থাৎ পুলসিরাত পার হওয়ার মুহূর্তটুকু)।” (মান: সহীহ)

১৪৪. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত— এক নারী একটি শিশুকে নিয়ে নবীজী ﷺ-এর কাছে এসে আরজ করল, “হে আল্লাহর রাসূল! এর জন্য দোয়া করুন, কারণ ইতিমধ্যে আমি আমার তিনটি সন্তানকে দাফন করেছি (মারা গেছে)।” নবীজী ﷺ বললেন: “তুমি তো জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার জন্য এক মজবুত প্রাচীর তৈরি করে ফেলেছো।” (মান: সহীহ)

১৪৫. খালিদ আল-আবসি (রহ.) থেকে বর্ণিত— তিনি বলেন, আমার একটি ছেলে মারা গেলে আমি প্রচণ্ড শোকাতুর হয়ে পড়লাম। তখন আমি আবু হুরায়রা (রা.)-কে বললাম, “আপনি কি নবীজী ﷺ-এর কাছ থেকে এমন কিছু শুনেছেন যা আমাদের মৃত ব্যক্তিদের শোকে আমাদের মনকে শান্ত করতে পারে?” তিনি বললেন, আমি নবীজী ﷺ-কে বলতে শুনেছি: “তোমাদের (নাবালেগ অবস্থায় মারা যাওয়া) শিশুরা হলো জান্নাতের প্রজাপতি (তথা জান্নাতের স্থায়ী বাসিন্দা, যারা সেখানে অবাধে বিচরণ করবে)।” (মান: সহীহ)

১৪৬. হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত— তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তির তিনটি সন্তান মারা যায় এবং সে সওয়াবের আশায় ধৈর্য ধারণ করে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” আমরা আরজ করলাম, “হে আল্লাহর রাসূল! যদি দুটি সন্তান হয়?” তিনি বললেন: “দুটি হলেও।” (বর্ণনাকারী মাহমুদ ইবনে লাবীদ বলেন) আমি জাবের (রা.)-কে বললাম, “আমার মনে হয় আপনারা যদি একজনের কথা বলতেন, তবে তিনি তা-ও বলতেন।” জাবের (রা.) বললেন, “আল্লাহর কসম! আমারও তাই ধারণা।” (মান: হাসান)

১৪৭. আবু হুরায়রা (রা.) থেকে পূর্বোক্ত ১৪৪ নম্বর হাদিসের অনুরূপ আরেকটি বর্ণনা এসেছে। (মান: সহীহ)

১৪৮. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত— এক নারী রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে আরজ করল, “হে আল্লাহর রাসূল! (আপনার মজলিসে পুরুষদের ভিড়ে) আমরা আপনার কথা শোনার সুযোগ পাই না। তাই আমাদের জন্য একটি দিন নির্ধারণ করে দিন, যেদিন আমরা আপনার কাছে আসব।” তিনি বললেন: “তোমরা অমুকের বাড়িতে একত্রিত হও।” অতঃপর তিনি সেখানে তাঁদের কাছে এলেন এবং নসিহত

« <
/ 122
> »