আদাবুল মুফরাদ

« <
/ 122
> »

গুনাহগুলো মুছে দেন (অর্থাৎ এটি গুনাহের কাফফারা, নতুন সওয়াব নয়)।” (মান: য‘ঈফ)

৪৯২. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত— নবী করীম ﷺ এরশাদ করেছেন: “মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে ক্লান্তি, রোগ-ব্যাধি, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, কষ্ট ও শোক আসে—এমনকি তার শরীরে যে কাঁটা ফুটে—তার বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।” (মান: সহীহ)

 

৪৯৩. হযরত সালমান ফারসী (রা.) থেকে বর্ণিত— তিনি কিন্দা এলাকায় এক অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গিয়ে বললেন: “সুসংবাদ গ্রহণ করো! কারণ মুমিনের অসুস্থতাকে আল্লাহ তার গুনাহের কাফফারা এবং নিজেকে সংশোধনের মাধ্যম বানিয়ে দেন। কিন্তু পাপিষ্ঠ (ফাজের) ব্যক্তির অসুস্থতা হলো ওই উটের মতো, যাকে তার মালিক বাঁধল আবার ছেড়ে দিল, কিন্তু সে জানে না কেন তাকে বাঁধা হয়েছিল আর কেনই বা ছাড়া হলো।” (মান: সহীহ)

 

৪৯৪. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত— নবী করীম ﷺ এরশাদ করেছেন: “মুমিন নর-নারীর ওপর তাদের শরীর, পরিবার এবং সম্পদের ওপর বিপদ-আপদ লেগেই থাকে; যতক্ষণ না সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করে যে তার আর কোনো গুনাহ অবশিষ্ট থাকে না।” (মান: সহীহ)

৪৯৫. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত— এক গ্রাম্য আরব (বেদুঈন) নবীজী ﷺ-এর কাছে আসলো। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: “তোমার কি কখনো ‘উম্মু মিলদাম’ হয়েছে?” সে বলল, “উম্মু মিলদাম কী?” তিনি বললেন: “চামড়া ও মাংসের মাঝখানে এক প্রকার তাপ (জ্বর)।” সে বলল, “না।” নবীজী ﷺ পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন: “তোমার কি কখনো মাথাব্যথা হয়েছে?” সে বলল, “মাথাব্যথা কী?” তিনি বললেন: “মাথার ভেতরে এক প্রকার বায়ু যা রগগুলোতে আঘাত করে।” সে বলল, “না।” লোকটি যখন চলে গেল, তখন নবীজী ﷺ বললেন: “যে ব্যক্তি কোনো জাহান্নামী লোককে দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন একে দেখে নেয়।” (মান: হাসান সহিহ)

(সতর্কতা: এর অর্থ এই নয় যে রোগ না হওয়া খারাপ, বরং এর গূঢ় অর্থ হলো—যাদের দুনিয়াতে কোনো পরীক্ষাই হয় না বা কোনো কষ্টই স্পর্শ করে না, অনেক সময় তারা আল্লাহর রহমত ও গুনাহ মাফের প্রক্রিয়া থেকে দূরে থেকে যায় এবং তাদের মাঝে অহংকার জন্ম নেয়।)

পরিচ্ছেদ: গভীর রাতে অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া

৪৯৬. খালিদ ইবনুর রাবী (রহ.) থেকে বর্ণিত— যখন (প্রখ্যাত সাহাবী) হযরত হুজাইফা

« <
/ 122
> »