পুরস্কার হবে মহান আল্লাহর দর্শন। হাদীস শরীফে এসেছে— নবী (সা.) বলেছেন:
“জান্নাতীরা যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন একজন ঘোষক ঘোষণা করবেন— হে জান্নাতীরা! আল্লাহর কাছে তোমাদের জন্য একটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে যা তিনি এখন পূরণ করতে চান। তারা বলবে— সেটি কী? তিনি কি আমাদের চেহারা উজ্জ্বল করে দেননি? আমাদের আমলের পাল্লা ভারী করে দেননি? আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেননি? এরপর আল্লাহ নূরের পর্দা উন্মোচন করবেন এবং তারা তাঁর দিকে তাকাবে। আল্লাহর কসম! আল্লাহ তাদের যত নেয়ামত দান করেছেন, তার মধ্যে তাঁর দিকে তাকানোর চেয়ে প্রিয় এবং চোখের শীতলতাদায়ক আর কিছুই হবে না।” [সহীহ মুসলিম]
সুতরাং মুমিনের জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত সেই মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জন এবং জান্নাতে তাঁর নূরের জ্যোতিতে অবগাহন করা।
বাহ্যিক সৌন্দর্য ও অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য
ইসলামে সৌন্দর্যের ধারণা কেবল দেহের কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা আত্মা ও চরিত্রের গভীরতায় প্রোথিত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টির বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন:
“তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন।” [সূরাহ ফাত্বির: ১]
ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন—এই আয়াতের তাফসীরে আলেমগণ বলেছেন, এটি হলো ‘সুমধুর কণ্ঠস্বর’ এবং ‘সুন্দর অবয়ব’। আল্লাহ তা‘আলা আরও ইরশাদ করেন:
“হে বনী আদম! আমি তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং যা সৌন্দর্য প্রকাশ করে; আর তাকওয়ার পোশাকই হলো সর্বোত্তম।” [সূরাহ আল-আ’রাফ: ২৬]
এখানে ‘সৌন্দর্য প্রকাশ’ বলতে বাহ্যিক সাজসজ্জাকে বোঝানো হয়েছে, আর ‘তাকওয়া’ হলো মানুষের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য। ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) তাঁর ‘রওজাতুল মুহিব্বীন’ গ্রন্থে এ বিষয়ে আরও লিখেছেন:
জেনে রাখা উচিত, সৌন্দর্য দুই প্রকার—বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ। অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যই হলো প্রকৃত ভালোবাসার বস্তু; আর তা হলো জ্ঞান, বুদ্ধি, উদারতা, প্রজ্ঞা ও বীরত্বের সৌন্দর্য। আল্লাহর দৃষ্টি বান্দার এই অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যের ওপরই নিবদ্ধ থাকে এবং এটিই তাঁর ভালোবাসার স্থান। যেমন হাদীসে এসেছে— “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের চেহারা এবং সম্পদের দিকে তাকান না; বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে তাকান।” [সহীহ মুসলিম]
এই অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য মানুষের বাহ্যিক রূপকেও লাবণ্যময় করে তোলে। এমনকি কারো বাহ্যিক চেহারা যদি খুব বেশি সুন্দর নাও হয়, তবুও তার আত্মার গুণাবলির কারণে এক অপার্থিব শ্রী, গাম্ভীর্য ও
