চমৎকার সমাধানের মাধ্যমে চেয়েছিলেন নসরের জৈবিক তাড়নাকে তার স্বদেশ প্রেম ও স্বজনদের বিরহ-কাতরতার দিকে ধাবিত করে তাকে উচ্চতর মানে আসীন করতে।
পরবর্তী এক রাতে উমর (রা.) পুনরায় সেই তরুণীকে কবিতা আবৃত্তি করতে শুনলেন। সেই নারী তখন জানতে পেরেছে যে তার কারণেই নসরের কপালে বসরায় নির্বাসন জুটেছে। সে তখন স্বীয় পবিত্রতা ও নির্দোষিতা ঘোষণা করে কবিতা পড়ছিল। তার আগের কথাগুলো ছিল নিছক জিহ্বার স্খলন আর শয়তানের প্ররোচনা; প্রকৃতপক্ষে সে ছিল একজন ধর্মপ্রাণ ও পবিত্র নারী:
“বলুন সেই ইমামকে, যাঁর কঠোরতাকে সবাই ভয় পায়—
শরাব কিংবা নসরের সাথে আমার কীসের সম্পর্ক?
আমার নিছক ধারণাকে সত্য বলে ধরে নেবেন না,
পথ তো কেবল ভয় ও আশার মাঝেই নিহিত।
সেদিনের সেই কামনা ছিল কেবলই অনিচ্ছাকৃত এক আবেগ,
মানুষের মাঝে কেউ তো ধ্বংস হয়, কেউবা পায় মুক্তি।
আমার এই প্রেম কেবলই এক অপবাদ, যা আমি বয়ে বেড়াই,
যতক্ষণ না আমি পবিত্রতার লাগামে নিজেকে সঁপে দিই।
তাকওয়া দিয়ে একে বেঁধে রাখুন, এটি কোনো ক্ষতি করবে না…”
নারীর প্রতি কুধারণা করার কারণে উমর (রা.) কেঁদে ফেললেন এবং মনে মনে বললেন— “সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি মানুষের কামনা-বাসনাকে পবিত্রতা ও তাকওয়ার লাগাম দিয়ে বেঁধে দিয়েছেন।”
এদিকে নসর ইবনে হাজ্জাজ বসরা থেকে খলিফার কাছে একটি চিঠিতে লিখে পাঠালেন:
“হে উমর! আপনি আমায় নির্বাসিত করে বঞ্চিত করলেন,
অথচ কোনো নিষিদ্ধ কাজে জড়ানোর অপরাধ আমার নেই।
আমি আজ নির্বাসিত কোনো সন্দেহজনক আচরণ ছাড়াই,
অথচ নিরাপদ আশ্রয়ে ছিল আমার অবস্থান।
সন্দেহ ছাড়া আমার আর কোনো অপরাধ নেই,
আর কোনো কোনো ধারণাকে সত্য ভাবাই তো বড় পাপ।
যদি কোনো নারী কখনো আমায় নিয়ে বিরহসঙ্গীত গায়,
তবে নারীর সেই আকাঙ্ক্ষা তো নিছক এক প্রেমাতুর আবেগ।
আপনি আমায় নিয়ে সেই ধারণা করলেন, যা যদি আমি সত্যই করতাম—
তবে পুণ্যবানদের কাতারে আমার কোনো স্থান হতো না।
আমার আভিজাত্য ও মহৎ পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যই—
আমায় বিরত রাখে সেই সব কাজ থেকে, যা ওই নারী কামনা করে।
আর তার প্রার্থনা, আভিজাত্য ও সিয়ামই—
তাকে বিরত রাখে সেই কামনা পূর্ণ করা থেকে।
এই তো আমাদের অবস্থা! তবে কি আপনি আমায় ফিরিয়ে নেবেন না?
দুশ্চিন্তায় আজ আমার শরীর শীর্ণ ও অবশ
