হয়ে ওঠে।”
স্বামীর আহ্বানে স্ত্রীর দ্রুত সাড়া দেওয়ার বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনার গুরুত্ব বোঝাতে ‘আল-আগানী’ গ্রন্থ থেকে একটি সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জিত গল্প উল্লেখ করছি:
জনৈক নারী বলেন— “আমি আয়েশা বিনতে তালহার কাছে ছিলাম। এমন সময় বলা হলো যে, তাঁর স্বামী উমর ইবনে উবাইদ এসেছেন। আমি একপাশে সরে গেলাম এবং স্বামী ভেতরে প্রবেশ করলেন। আমি দীর্ঘক্ষণ তাঁদের খুনসুটি ও আনন্দঘন কথা শুনতে পেলাম… এমনকি তাঁদের মিলনের নানারকম শব্দও আমার কানে এল। স্বামী চলে যাওয়ার পর আমি আয়েশাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনার মতো সম্ভ্রান্ত ও মর্যাদাশীল নারী হয়ে আপনি এভাবে এমন আচরণ করলেন?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘আমরা আমাদের স্বামীদের তুষ্ট করার জন্য এবং তাঁদের উত্তেজিত করার জন্য সাধ্যমতো সবকিছুই করি। এতে আপত্তির কী দেখলে?’ আমি বললাম, ‘আমি চাইতাম এগুলো যেন কেবল রাতেই হতো!’ তিনি বললেন, ‘রাতে তো এর চেয়েও বেশি কিছু হয়। তবে তিনি যখনই আমাকে দেখেন এবং তাঁর মাঝে কামনার উদ্রেক হয় আর তিনি হাত বাড়ান—তখনই আমি তাঁর অনুগত হই। আর তার ফল তো তুমি শুনতেই পেলে!'”
স্বামীর প্রতি কিছু নসিহত
স্বামীর প্রতি আমার নসিহত হলো—তিনি যেন কেবল স্ত্রীর ওপর অর্পিত হকের হাদীসগুলোর ওপর নির্ভর না করেন, বরং নিজেও যেন মার্জিত ও স্বার্থহীন হন এবং তাড়াহুড়ো না করে স্ত্রীকে আকৃষ্ট ও উত্তেজিত করার সক্ষমতা অর্জন করেন। যেমনটি বলা হয়— “নারী হলো একটি বাদ্যযন্ত্রের মতো, যা কেবল একজন দক্ষ বাদকই সুন্দরভাবে বাজাতে পারেন!”
রাসূলুল্লাহ (সা.) যে স্ত্রীকে দ্রুত সাড়া দিতে বলেছেন, তার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। যেমন—স্ত্রীর অনীহা দেখে স্বামীর মনে হতে পারে যে স্ত্রী তাকে ভালোবাসে না। এর ফলে দাম্পত্যে এমন সংকট তৈরি হতে পারে যার পরিণাম শুভ হয় না। তবে এই সাড়া দেওয়ার অর্থ কেবল বিছানায় যাওয়া বা নিজেকে সঁপে দেওয়া নয়; বরং স্ত্রীর উচিত স্বতস্ফূর্তভাবে সাড়া দেওয়া এবং উদ্দীপনা বিনিময় করা। নিজের স্বভাবজাত শীতলতা নিয়ে পড়ে থাকা উচিত নয়, যাতে স্বামী বিরক্ত না হন বা স্ত্রীর প্রতি বিরূপ ধারণা পোষণ না করেন।
তবে যদি স্বামীর চাহিদা মাত্রাতিরিক্ত (সপ্তাহে দুবারের বেশি) হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ হতে পারে, তবে স্ত্রীকে প্রজ্ঞার সাথে স্বামীর সেই শক্তিকে অন্য গঠনমূলক কাজে
