তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

আলাদা করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইসলামি শিষ্টাচার। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, অনেকেই এই বিষয়টি এড়িয়ে যান। এক ব্যক্তি আমার কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে, এই নববী নির্দেশ পালনে অবহেলার কারণে সে তার খালা ও খালাতো বোনের ইজ্জত হরণ করেছিল!
ইমাম ইবনে হাজম (রহ.) তাঁর ‘তওকুল হামামাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—এক আরব নারীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তার গর্ভে কার সন্তান (কারণ সে তার এক নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে গর্ভবতী হয়েছিল)। সে উত্তরে বলেছিল: “বিছানার নৈকট্য এবং দীর্ঘ অন্ধকার রাত!” অর্থাৎ এই ভয়াবহ পরিণতির মূল কারণ ছিল নিকটাত্মীয়দের সাথে একই বিছানায় ঘুমানো কিংবা দীর্ঘ সময় অতি ঘনিষ্টভাবে মেলামেশা করা।
ইসলামের প্রগতিশীলতা ও আধুনিক বিজ্ঞানের স্বীকৃতি
ইসলামের মহানুভবতা এবং এর প্রগতিশীল মূলনীতির প্রমাণ হলো—আজ থেকে চৌদ্দশ বছর আগে আল্লাহর রাসূল (সা.) সন্তানদের বিছানা আলাদা করার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও যৌনতত্ত্ব বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে আজ সেই একই বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এর সুফল বর্ণনা করছেন এবং এই নির্দেশ পালনে অবহেলার পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করছেন।
আমেরিকার ‘চাইল্ড স্টাডি অ্যাসোসিয়েশন’ কর্তৃক প্রকাশিত ‘টেল ইয়োর চাইল্ড অ্যাবাউট সেক্স’ (আপনার শিশুকে যৌনতা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে বলুন) নামক গ্রন্থে বলা হয়েছে:
“শিশুদের একই বিছানায় ঘুমানো উচিত নয়, এমনকি সম্ভব হলে তাদের শোয়ার ঘরও আলাদা হওয়া বাঞ্ছনীয়। যে সব শিশু নিয়মিত একই বিছানা ভাগাভাগি করে ঘুমায়, তাদের মাঝে শারীরিক ঘর্ষণ বা স্পর্শের সম্ভাবনা থাকে, যা তাদের অকাল যৌন কৌতুহল বা আচরণের প্রতি প্রলুব্ধ করতে পারে। আর মা-বাবার শোয়ার ঘরে সন্তানদের রাখা তো কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। অনেক সময় শিশুরা ঘুমিয়ে আছে বলে মনে হলেও আসলে তারা পুরোপুরি ঘুমায় না—এমনকি দুই বা তিন বছরের শিশুর ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। মা-বাবার একান্ত শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি শিশুদের মনে ভীতির সঞ্চার করতে পারে। এমনকি ঘুটঘুটে অন্ধকারও তাদের এই প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারে না, কারণ শিশুরা বিভিন্ন শব্দ শুনেও বিচলিত বা কৌতূহলী হয়ে পড়তে পারে!”
সতর্কতা ও করণীয়
আমরা লক্ষ্য করলে দেখব—শিশুদের মাঝে অকাল যৌন বিচ্যুতির অনেক ঘটনার মূলে রয়েছে তাদের বিছানা পৃথক না করা এবং মা-বাবার শোয়ার ঘরে তাদের ঘুমানোর সুযোগ দেওয়া। অথচ শরিয়ত ও বিবেক—উভয় দিক থেকেই এটি

« <
/ 351
> »