তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

বুখারী, মুসলিম, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ]
এই হাদীসগুলো সন্তান হারানোর বেদনায় যারা কাতর, তাদের জন্য এক বিরাট সান্ত্বনা। মৃত্যু যে শুধু বিচ্ছেদের বেদনা বয়ে আনে না, বরং তা আখিরাতের পাথেয়ও হতে পারে—তা আমরা এখানে দেখতে পাই।
একদা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বাকীউল গারকাদ কবরস্থানের দিকে বের হলেন। সেখানে গিয়ে দেখলেন এক বেদুইন তার মৃত সন্তানের শোকে বিলাপ করে এই কবিতাটি আবৃত্তি করছে—
“হে সেই পথিক! যে আর কোনোদিন সফর থেকে ফিরবে না,
হে আমার নয়নমণি! তুমিই ছিলে আমার হৃদয়ের প্রশান্তি।
শৈশবেই তুমি সেই তিক্ত পেয়ালা পান করলে—
যা তোমার বাবাকেও একদিন পান করতে হবে।
রাত দীর্ঘ হোক কি ছোট—বিজন মরু কি লোকালয়,
সবখানেই আজ তোমার শূন্যতা আমাকে কুড়ে কুড়ে খায়।
হায়! হায়াত আর মউত তো কেবল আল্লাহরই ফয়সালা,
কেউ কি পারে তাঁর বিধানে অদলবদল ঘটাতে?
সকল প্রশংসা কেবল সেই আল্লাহর, যাঁর কোনো শরিক নেই—
যিনি সৃষ্টির মাঝে মৃত্যু বণ্টন করেছেন সমভাবে।”
বেদুইনের এই আর্তনাদ শুনে উমর (রা.) বললেন, “হে বেদুইন! তুমি সত্য বলেছ। তবে জেনে রেখো—তোমার সন্তানের চেয়ে আল্লাহ তোমার জন্য অনেক বেশি উত্তম প্রতিদান দেবেন।”
মা-বাবার জন্য সন্তানদের সুপারিশ
আবু হাসসান (রহ.) বর্ণনা করেন—আমার দুটি পুত্র মারা গেলে আমি আবু হুরায়রা (রা.)-কে বললাম, “আপনি কি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে এমন কোনো হাদীস শুনেছেন যা আমাদের মৃত সন্তানদের বিরহে আমাদের মনে শান্তি দিতে পারে?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ! তাদের ছোটরা হলো জান্নাতের প্রজাপতি (দা‘আমীস)। তারা (পরকালে) তাদের বাবার সাথে—অথবা বলেছেন মা-বাবার সাথে—দেখা করবে। এরপর সে তার বাবার কাপড়ের আঁচল অথবা হাত এমনভাবে ধরবে, যেমন আমি এখন তোমার কাপড়ের এই প্রান্তটি ধরেছি। এরপর সে ততক্ষণ পর্যন্ত বাবাকে ছাড়বে না, যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে ও তার বাবাকে জান্নাতে প্রবেশ করান!” [সহীহ মুসলিম]
এটি একটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী হাদীস। ছোট্ট শিশু, যে দুনিয়াতে বাবা-মায়ের কোলে বড় হতে পারেনি, সে আখিরাতে বাবা-মায়ের হাত ধরে জান্নাতে নিয়ে যাবে। এটি সন্তানদের প্রতি আল্লাহর অপার দয়া ও মমতার পরিচয়।
স্বামীর বিপদে স্ত্রীর কোমলতা ও সান্ত্বনা: আবু তালহার ঘটনা
শুধু সন্তান হারানোর সওয়াবই নয়, ইসলাম আমাদের শেখায় কীভাবে বিপদে একে অপরকে সান্ত্বনা দিতে হয়। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক অনন্য

« <
/ 351
> »