আমি আমার হৃদপিণ্ডকে দাফন করে এলাম;
যদি সে কোনোদিন কারো প্রতি বিন্দুমাত্র অন্যায় না করত—
তবে নি:সন্দেহে সে হতো এই জনপদের শ্রেষ্ঠ রত্ন।
আজ আমারও মরে যাওয়া উচিত এই নিদারুণ শোকে।
আমার ধৈর্য ও সহনশীলতা আজ লুপ্ত হয়ে গেছে,
ওগো মৃত্যু! কোন প্রাণকে তুমি হরণ করে আনলে?
তুমিই ছিলে আমার চোখের মণি—
সবসময় তোমাকে নিয়েই আমার যত ভয় ও উদ্বেগ ছিল।”
এক সাহাবীর হৃদয়বিদারক কাহিনী
জাবির ইবনে নুহ বর্ণনা করেন—আমি মদিনায় একজনের কাছে কোনো প্রয়োজনে বসে ছিলাম। তখন আমাদের পাশ দিয়ে অত্যন্ত সুন্দর চেহারা ও মার্জিত পোশাক পরিহিত এক বৃদ্ধ হেঁটে যাচ্ছিলেন। আমার পাশের ব্যক্তিটি উঠে গিয়ে তাঁকে সালাম দিলেন এবং বললেন, “হে আবু মুহাম্মদ! আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আপনার সওয়াব বাড়িয়ে দেন এবং আপনার হৃদয়কে ধৈর্য ধারণের শক্তি দেন।” তখন সেই বৃদ্ধ এই কবিতাটি আবৃত্তি করলেন—
“রণক্ষেত্রে সে ছিল আমার ডান হাত ও পরম সাহায্যকারী,
আজ সেই ডান হাত তার বাহুকেই যেন ধোঁকা দিয়ে চলে গেল।”
লোকটি তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, “সুসংবাদ গ্রহণ করুন; ধৈর্যই তো মুমিনের হাতিয়ার। আমি আশা করি আল্লাহ আপনাকে এই বিপদে সওয়াব থেকে বঞ্চিত করবেন না।”
আমি লোকটিকে জিজ্ঞেস করলাম—এই বৃদ্ধ কে? তিনি বললেন, “ইনি একজন আনসারী সাহাবী।” আমি তাঁর কাহিনী জানতে চাইলে তিনি বললেন—তিনি তাঁর নেককার ছেলেকে হারিয়েছেন, যে তাঁর যাবতীয় পার্থিব ঝক্কি-ঝামেলা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল। আর তার মৃত্যুটাও ছিল বড় অদ্ভুত!
আমি অবাক হয়ে কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন—এক নারী তাকে ভালোবেসে ফেলে এবং নিজের প্রেমের কথা জানিয়ে তাকে কাছে পাওয়ার প্রস্তাব দেয়। সেই নারী ছিল বিবাহিতা। সে যুবকটির পেছনে লেগেই রইল। যুবকটি তার এক বন্ধুকে বিষয়টি জানালে বন্ধু পরামর্শ দিল—তুমি তোমার বাড়ির কোনো নারীকে দিয়ে তাকে উপদেশ দেওয়ানোর ব্যবস্থা করো, যেন সে বিরত হয়।
কিন্তু সেই নারী বার্তা পাঠাল—হয় তুমি আমার কাছে এসো, নয়তো আমিই তোমার কাছে আসব। যুবকটি অস্বীকার করল। যখন সেই নারী নিরাশ হলো, সে এক জাদুকরীর কাছে গিয়ে যুবকটিকে বশ করার জন্য বড় অঙ্কের বিনিময় দিল। জাদুকরী যুবকটির ওপর জাদু করল। এক রাতে যুবকটি যখন তার বাবার সাথে বসে ছিল, হঠাৎ সেই নারীর কথা তার
