করতে দিতেন।” [সহীহ বুখারী]
একইভাবে নারীর উচিত স্বামীর দারিদ্র্যের ওপর ধৈর্য ধারণ করা। এমনকি যে স্বামীকে সে পূর্ণ স্বাধীনভাবে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছে, তাঁর চেহারার শ্রীহীনতার ওপরও সবর করা উচিত।
এ প্রসঙ্গে একটি চমৎকার গল্প প্রচলিত আছে—একজন কুৎসিত ও বেমানান গড়নের মানুষ তাঁর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করল। স্ত্রী ছিলেন অত্যন্ত সুন্দরী এবং সেই মুহূর্তে তিনি সেজেগুজেই বসে ছিলেন। রূপসী স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে স্বামী মোহিত হয়ে গেলেন এবং অপলক দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলেন। স্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন: “কী হয়েছে আপনার?” স্বামী বললেন: “আলহামদুলিল্লাহ! আজ তোমাকে সত্যিই খুব সুন্দর দেখাচ্ছে।” স্ত্রী তখন মুচকি হেসে বললেন: “সুসংবাদ গ্রহণ করুন! আপনি আর আমি—উভয়েই জান্নাতে যাব।” স্বামী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন: “তুমি এটি কীভাবে জানলে?” স্ত্রী বললেন: “কারণ, আপনি আমার মতো একজন (সুন্দরী) স্ত্রী পেয়েছেন এবং সেজন্য শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। আর আমি আপনার মতো একজনের দ্বারা (রূপহীনতার) পরীক্ষায় পড়েছি এবং তাতে সবর বা ধৈর্য ধরেছি। আর কৃতজ্ঞতাকারী ও ধৈর্যশীল—উভয়েই জান্নাতী!”
অন্য এক বর্ণনায় আছে—জনৈক রাজা তাঁর উজিরকে সাথে নিয়ে একদিন গুহার মতো এক জীর্ণ কুটিরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। কুটিরের ভেতর আগুনের ক্ষীণ আলো দেখা যাচ্ছিল। রাজা কৌতূহলী হয়ে সেখানে গিয়ে দেখলেন—ছেঁড়া কাপড় পরা এক ব্যক্তি মাটির ঢিবির ওপর হেলান দিয়ে বসে আছে। তার সামনে মাটির পাত্রে অতি সাধারণ কিছু খাবার। আর তার স্ত্রী তাকে রাজকীয় কায়দায় সম্মান জানিয়ে অভিবাদন জানাচ্ছে; স্বামীও স্ত্রীকে ‘নারীকুল শিরোমণি’ হিসেবে সম্বোধন করছে। এই দম্পতির অকৃত্রিম ভালোবাসা দেখে রাজা ঈর্ষান্বিত হলেন এবং বললেন: “নেককার লোকেরা সত্যই বলেন—তাঁরা এমন এক স্বর্গীয় সুখে আছেন, যার খবর যদি রাজা-বাদশাহরা জানত, তবে তা কেড়ে নেওয়ার জন্য তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধে নামত!”
উপসংহার
উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন—“মুহাম্মদ (সা.)-এর পরিবার ইন্তেকাল পর্যন্ত কখনো টানা দুই দিন যবের রুটি পেট ভরে খায়নি।”
সাহাবী সাহল বিন সাদ (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: “নবীজী (সা.) কি কখনো সরু আটা বা সাদা ময়দার (النقي) রুটি খেয়েছেন?” তিনি উত্তরে বললেন: “আল্লাহর কসম! নবুওয়াত প্রাপ্তি থেকে শুরু করে ইন্তেকাল পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনো সাদা ময়দার মুখ দেখেননি।” [সহীহ বুখারী]
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর খাদেম আনাস বিন মালিক (রা.) বলেন—“আমি যতদূর জানি, মৃত্যু অবধি
