(সা.) ইরশাদ করেছেন: “হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যার বিবাহ করার সামর্থ্য আছে, সে যেন বিবাহ করে [২]। কারণ, বিবাহ দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে হিফাযত করে। আর যার সামর্থ্য নেই [৩], সে যেন রোজা রাখে [৪]; কেননা রোজা তার যৌন উত্তেজনা প্রশমন করবে।” [মুত্তাফাকুন আলাইহি; বুখারী ও মুসলিম]
নারী: জীবনের শ্রেষ্ঠতম সুখ/নারী হলো পার্থিব জীবনের অন্যতম আনন্দদায়ক নিয়ামত
কুরআনের আয়াত:
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً
“আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে একটি হলো—তিনি তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের জন্য জুটি সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করতে পারো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।” [সূরাহ আর-রূম: ২১]
হাদীস: ۩ “তোমাদের এই দুনিয়ার মধ্য থেকে আমার কাছে দুটি জিনিসকে প্রিয় করা হয়েছে: নারী এবং সুগন্ধি। আর আমার চোখের শীতলতা রাখা হয়েছে নামাজে।” [নাসায়ী, আহমাদ ও হাকীম; সনদ সহীহ]
ভারসাম্যপূর্ণ জীবনের মূলমন্ত্র
হাদীস:
হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত— তিনজন সাহাবী নবীজি (সা.)-এর পবিত্র স্ত্রীদের কাছে গিয়ে তাঁর নিভৃত ইবাদতের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলেন। যখন তাঁদেরকে নবীজি (সা.)-এর আমল সম্পর্কে জানানো হলো, তখন তাঁরা আমলগুলোকে নিজেদের তুলনায় কিছুটা কম মনে করলেন (অর্থাৎ তাঁরা আরও বেশি কষ্টসাধ্য আমল করতে চাইলেন)। তাঁরা বললেন—
“রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে আমাদের তুলনা কোথায়? তাঁর তো আগের-পরের সব গোনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন!”
অতঃপর তাদের একজন বলল, “আমি সারাজীবন সারারাত জেগে নফল সালাত আদায় করব।” দ্বিতীয় জন বলল, “আমি সারাজীবন রোজা রাখব, কখনো রোজা ভাঙব না।” তৃতীয় জন বলল, “আমি নারী সংসর্গ ত্যাগ করব এবং কখনো বিয়ে করব না।”
এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের কাছে এলেন এবং বললেন, “তোমরাই কি সেই সব কথা বলেছ? শোনো! আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের চেয়ে আল্লাহকে বেশি ভয় করি এবং তাঁর প্রতি বেশি অনুগত। তা সত্ত্বেও আমি রোজা রাখি আবার ইবাদত থেকে বিরতিও দেই (রোজা ভাঙি), রাতে সালাত আদায় করি আবার ঘুমাইও, আর আমি বিয়েও করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহর প্রতি বিরাগভাজন হবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।” [সহীহ বুখারী]
۩ রাসূলুল্লাহ (সা.) সালমান (রা.) ও আবূ দারদা (রা.)-এর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি করে
