প্রকাশের ফুরসতটুকুও তাদের হয় না। পাশ্চাত্যের এই চরম অবাধ্যতা, রূঢ়তা ও আত্মিক শুষ্কতার বিপরীতে ইসলামের এই প্রবহমান মায়ার ঝর্ণাধারা, আনুগত্য ও চিরস্থায়ী বিশ্বস্ততা কতই না চমৎকার! এটিই হলো ইসলাম এবং মানুষের সত্তা গঠন ও সুউচ্চ মানবিক বন্ধন স্থাপনে এর সেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও অনন্য জীবনদর্শন, যার উচ্চতায় পৃথিবীর কোনো তন্ত্র-মন্ত্র বা আইন কোনোদিন পৌঁছাতে পারেনি।
তাঁদের প্রতি সদাচরণের পদ্ধতি:
ইসলাম যাকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে, সে অবশ্যই পিতামাতার প্রতি অনুগত। সে তাঁদের সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদার চাদরে আবৃত করে রাখে। তাঁরা মজলিসে উপস্থিত হলে সে সম্মানার্থে উঠে দাঁড়ায়, পরম শ্রদ্ধায় তাঁদের হাত চুম্বন করে। আদব ও বিনয়ের খাতিরে তাঁদের সামনে নিজের কণ্ঠস্বর নিচু রাখে, নিজেকে তাঁদের সামনে বিলীন করে দেয়। কথা বলার সময় অত্যন্ত মার্জিত ও কোমল শব্দ চয়ন করে; কোনো কর্কশ কথা বা রূঢ় অভিব্যক্তি তাঁর জবান থেকে বের হয় না। যেকোনো পরিস্থিতিতেই হোক না কেন, তিনি তাঁদের সাথে এমন কোনো আচরণ করেন না যা শিষ্টাচার ও সম্মানের পরিপন্থী। এ ক্ষেত্রে তাঁর চিরন্তন পাথেয় হলো আল্লাহর এই বাণী:
﴿وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا * وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا﴾
“তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে। তাঁদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে তাঁদের ‘উহ’ পর্যন্ত বলো না এবং তাঁদের ধমক দিও না; বরং তাঁদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো। আর মমতাবশে তাঁদের প্রতি নম্রতার ডানা অবনমিত করো
