“তোমার মা।” সে বলল, ‘তারপর কে?’ তিনি বললেন— “তোমার মা।” সে আবারও জিজ্ঞেস করল, ‘তারপর কে?’ তিনি বললেন— “তোমার মা।” সে পুনরায় জিজ্ঞেস করল, ‘তারপর কে?’ তিনি বললেন— “তোমার বাবা।” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
এই হাদীসটি নিশ্চিত করে যে, পিতামাতা উভয়ের সেবা করতে হলেও মায়ের হক বা অধিকার পিতার আগে। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পরবর্তী সময়ে সাহাবীগণও এই শিক্ষাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রচার করতেন। উম্মতের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত ও ফকীহ ইবনে আব্বাস (রা.) মায়ের প্রতি সদাচরণকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সবচেয়ে বড় মাধ্যম মনে করতেন।
আতা ইবনে ইয়াসার (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন— এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কাছে এসে বলল, ‘আমি এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু সে আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে অন্য এক ব্যক্তিকে বিয়ে করতে রাজি হয়। এতে আমি ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে হত্যা করে ফেলি। এখন আমার কি তওবার কোনো সুযোগ আছে?’ ইবনে আব্বাস (রা.) জিজ্ঞেস করলেন— ‘তোমার মা কি জীবিত আছেন?’ সে বলল, ‘না।’ তখন তিনি বললেন— ‘তবে আল্লাহর কাছে তওবা করো এবং সাধ্যমতো তাঁর ইবাদত করে তাঁর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করো।’ আতা ইবনে ইয়াসার (রহ.) বলেন— আমি ইবনে আব্বাস (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনি কেন তাকে তার মায়ের কথা জিজ্ঞেস করলেন?’ তিনি উত্তর দিলেন—
“আমি আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য মায়ের প্রতি সদাচরণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কোনো আমল সম্পর্কে জানি না।” [আল-আদাবুল মুফরাদ]
এ কারণেই ইমাম বুখারী (রহ.) তাঁর ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’ কিতাবের শুরুতেই পিতামাতার প্রতি সদাচরণের অধ্যায়ে ‘মায়ের প্রতি সদাচরণ’-এর পরিচ্ছেদটিকে ‘পিতার প্রতি সদাচরণ’-এর আগে রেখেছেন, যাতে নবীজীর সুন্নাহর সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্য বজায় থাকে।
কুরআন মাজীদ সন্তানের হৃদয়ে কৃতজ্ঞতাবোধ জাগ্রত করার জন্য অত্যন্ত মমতা মাখানো ভাষায় গর্ভধারণ ও দুগ্ধপানের
