আদর্শ মুসলিম

« <
/ 87
> »

বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার যে দায়িত্ব তাঁদের ওপর অর্পিত হয়েছে, তা পালন করতে পারে। এর বাস্তব প্রমাণ মেলে জাইদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর বর্ণনায়, যেখানে নবী (সা.) তাঁকে বলেছিলেন—
“হে জাইদ! তুমি আমার জন্য ইয়াহূদীদের ভাষা (হিব্রু) শিখে নাও। কারণ, আল্লাহর কসম! আমার পত্রের ব্যাপারে আমি ইয়াহূদীদের বিশ্বাস করি না।” জাইদ (রা.) বলেন, “আমি তা শিখতে শুরু করলাম এবং মাত্র অর্ধমাস (১৫ দিন) পার হওয়ার আগেই আমি তাতে ব্যুৎপত্তি অর্জন করলাম। এরপর যখনই রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁদের কাছে পত্র লিখতেন, আমি তা লিখে দিতাম এবং যখন তাঁরা পত্র লিখতেন, আমি তা পড়ে শুনাতাম।” অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন— “তুমি কি সুরিয়ানি (Syriac) ভাষা জানো? আমার কাছে অনেক সময় এই ভাষায় পত্র আসে।” আমি বললাম, “না।” তিনি বললেন, “তবে এটি শিখে নাও।” তখন আমি তা শিখে নিলাম। [সুনানুত তিরমিযী; হাদীসটি হাসান সহীহ]
অনুরূপভাবে ইবনে যুবাইর (রা.) বেশ কয়েকটি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন, যা তাঁকে দ্বীন ও আখিরাত থেকে বিমুখ করেনি। তাঁর একশত গোলাম ছিল যারা প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলত এবং ইবনে যুবাইর (রা.) তাঁদের প্রত্যেকের সাথে তাঁদের নিজ নিজ ভাষায় কথা বলতেন। তাঁর দুনিয়াবি কর্মতৎপরতা দেখলে মনে হতো তিনি এক মুহূর্তের জন্যও আখিরাত চান না, আবার তাঁর ইবাদত ও পরকালমুখিতা দেখলে মনে হতো তিনি এক মুহূর্তের জন্যও দুনিয়া চান না। [আল-মুস্তাদরাক ও হিলইয়াতুল আওলিয়া]
বর্তমান যুগের একজন মুসলিমের জন্য বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা আগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি। কারণ তাকে এই সমকালীন সময়ে টিকে থাকতে হলে এবং নিজের ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে বিজাতীয় ভাষায় যা কিছু লেখা হচ্ছে (তা নেতিবাচক বা ইতিবাচক যাই হোক), সে সম্পর্কে সম্যক

« <
/ 87
> »