আমার ফাঁসি চাই

« <
/ 9
> »

পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা পাকিস্তানের নির্যাতনের বিরুদ্ধে বীরোচিত গণ আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ মুজিবসহ অভিযুক্ত সকলকে মুক্ত করে আনে।
১৯৬৯ সালেই ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক ছাত্র-জনতার বিশাল সভায় শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধী দেয়া হয়। ১৯৭০ সালে পাকিস্তান সরকার জাতীয় পরিষদ (এমএনএ)-এর এবং প্রাদেশিক পরিষদের (এমপিএ) নির্বাচন ঘোষণা করে।

মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানীর নেতৃত্বে কিছু সংখ্যক বামপন্থী রাজনৈতিক নেতা নির্বাচন বর্জনের জোরালো আহ্বান জানান। মজলুম জননেতা মাওলানা ভাষানীর বক্তব্য ছিল, পাকিস্তানি সরকারের নির্বাচনী ফাঁদে পা না দিয়ে পূর্বাঞ্চলকে স্বাধীন করার সংগ্রাম শুরু করা উচিত। তাদের শ্লোগান ছিল, “নির্বাচনে লাথি মার, পূর্ববাংলা স্বাধীন কর।” অপরদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে ছিলেন এবং তিনি জনগণকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান। জনগণ বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে অভূতপূর্ব সাড়া দিলো। গোটা পূর্ব পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধু এবং তার দল আওয়ামী লীগের পক্ষে নির্বাচনী জোয়ার বয়ে গেল। নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও তার দল আওয়ামী লীগকে বাঙালিরা পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে মাত্র ২টি ছাড়া বাকি ১৬৭টি আসনে বিজয়ী করল। মোট ভোটের শতকরা ৯২টি ভোট বঙ্গবন্ধু এবং তার দল পেলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সাড়া পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা হলেন। পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জেনারেল ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে পাকিস্তানের ভাবি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিহিত করলেন। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যগরিষ্ঠ নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধুকে প্রধানমন্ত্রীত্ব এবং তার দল আওয়ামী লীগকে পাকিস্তানের ক্ষমতা না দেয়ার নানান চক্রান্ত শুরু করলেন। পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি হলো আগ্নেয়গিরির মতো। বাঙালিরা চরম উৎকণ্ঠিত, উত্তেজিত। রাজপথ মিছিলে মিটিং-এ প্রকম্পিত। ঘরে ঘরে মানুষে মানুষে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা। সমগ্র বাঙালি কেবল তাকিয়ে আছে জাতির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবর রহমানের দিকে। তিনি যা বলছেন চোখের পলকে বাঙালি তাই করছে। ইতিহাসের পাতায় অনেক ইতিহাস দ্রুত পেরিয়ে যাচ্ছে। যে কোনো ধরনের কর্মসূচীতে শুধু শেখ মুজিবের ঘোষণা করতে যতটুকু দেরি তিনি যে কোনো কর্মসূচী ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ গতিতে বাঙালি তা বাস্তবায়িত করছে। উত্তাল জাতির মুখে শুধু একটি শ্লোগান গর্জন করে ফিরছে, “বাংলাদেশ স্বাধীন কর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর।”

« <
/ 9
> »