রাষ্ট্রের নাগরিককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা শুধু সংবিধান বিরোধী এবং বেআইনিই নয়, এটা হচ্ছে শপথবাক্যের স্পষ্ট বরখেলাপ। ১৯৯৬ সালের ২৩শে জুন সন্ধ্যা সাতটায় বঙ্গভবনের দরবার কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণের সময় শেখ হাসিনা শপথ নিয়ে বলেছিলেন, “আমি শেখ হাসিনা সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ করিতেছি যে, আমি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদের কর্তব্য বিশ্বস্ততার সঙ্গে পালন করিব।
“আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব। আমি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করিব এবং আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হয়ে সকলের প্রতি আইন অনুযায়ী যথাবিহীত আচরণ করিব।”
রাজনীতি হচ্ছে মানুষকে দেয়ার জন্য, পাওয়ার জন্য নয়। এই বিষয়টি নিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ই মে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার দিন থেকে ১৯৯৭ সালের ১৫ই জানুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ১৬ বৎসর বিরামহীন দ্বন্দের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের তাড়িয়ে দিলেন। আমরা পরাজিত হলাম। তবুও বুঝাতে পারলাম না, রাজনীতি মানুষকে দেয়ার জন্য, পাওয়ার জন্য নয়। সত্যি কথা বলার প্রবল দৃঢ়তা আমাদেরকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের কাছে বিপদজনক করে তুলেছিল। ব্যক্তিগতভাবে যিনি অসৎ, বেঈমান, নিমকহারাম এবং মুনাফেক, তিনি কি রাষ্ট্রীয় বা সমাজ-জীবনে সৎ ঈমানদার হতে পারেন? – লেখক
