নূহ এর কওমের কিছু নেককার লোকের নাম। যখন তারা মারা গেল, শয়তান তাদের কওমকে কুমন্ত্রণা দিল—তারা যেন তাদের মজলিসগুলোতে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করে এবং সেগুলোকে তাদের নামেই নামকরণ করে। …অতঃপর যখন সেই প্রজন্ম মারা গেল এবং জ্ঞান বিলুপ্ত হলো, তখন সেগুলোর পূজা শুরু হলো’।” [সহীহুল বুখারী, হাদীস: ৪৯২০]
অধ্যায়ের শিক্ষা:
শিরকের প্রবেশপথ: নেককার লোকদের নিয়ে অতিভক্তি ও তাঁদের স্মৃতিস্তম্ভ বানানো থেকেই পৃথিবীতে প্রথম শিরকের জন্ম হয়েছিল। তাই দ্বীনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি বর্জনীয়।
ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা: নূহ (আ.) সাড়ে নয়শো বছর দাওয়াত দিয়েছিলেন; সত্যের পথে চললে ধৈর্যই হলো প্রধান হাতিয়ার।
অহংকারের পরিণতি: আভিজাত্য ও বংশীয় অহংকার মানুষকে সত্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখে।
শয়তানের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা: শয়তান রাতারাতি কাউকে মুশরিক বানায় না, বরং ধীরে ধীরে স্মৃতিস্তম্ভ থেকে মূর্তিপূজার দিকে নিয়ে যায়।
মানুষের স্বভাব: যখনই কেউ সত্যের দাওয়াত দেয়, জাহেলরা যুক্তি না পেয়ে গালিগালাজ ও অপবাদ (পাগল, পথভ্রষ্ট ইত্যাদি) দেওয়া শুরু করে।
অধ্যায়- ২: নবীর দাওয়াত প্রদান
নূহ (সা.) ছিলেন মানবজাতির ইতিহাসে প্রথম ‘উলুল আযম’ বা দৃঢ়চেতা রাসূল। তিনি তাঁর জাতিকে শিরকের অন্ধকার থেকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে ডাকতে প্রায় সাড়ে নয়শত বছর অবিরাম পরিশ্রম করেছেন। তাঁর দাওয়াতের পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ—তিনি দিন-রাত, প্রকাশ্য ও গোপনে সর্বাবস্থায় মানুষকে হেদায়াতের দিকে আহ্বান করতেন। তিনি কেবল আখেরাতের ভয় দেখাননি, বরং দুনিয়ার সুখ-শান্তি ও রিযিকের বরকত লাভের জন্যও আল্লাহর কাছে তাওবাহ করার গুরুত্ব বুঝিয়েছেন। কিন্তু তাঁর জাতির অধিকাংশ লোকই তাঁর এই মহান আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। এই অধ্যায়ে আমরা নূহ (সা.)-এর দাওয়াতী পদ্ধতি ও তাঁর সুদীর্ঘ পরিশ্রম সম্পর্কে জানব।
সুদীর্ঘ সাড়ে নয়শত বছরের দাওয়াত
নূহ (সা.) তাঁর জাতির মধ্যে সুদীর্ঘ সময় অবস্থান করে তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছিলেন।
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَىٰ قَوْمِهِ فَلَبِثَ فِيهِمْ أَلْفَ سَنَةٍ إِلَّا خَمْسِينَ عَامًا
“আর অবশ্যই আমি নূহকে তার কওমের কাছে পাঠিয়েছিলাম, অতঃপর সে তাদের মধ্যে পঞ্চাশ বছর কম এক হাজার বছর (সাড়ে নয়শত বছর) অবস্থান করেছিল।” [সূরাহ আল-‘আনকাবূত: ১৪]
দাওয়াত প্রদানের বিচিত্র পদ্ধতি
তিনি কোনো একটি নির্দিষ্ট উপায়ে নয়, বরং সব ধরনের পদ্ধতিতে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকতেন।
قَالَ رَبِّ إِنِّي دَعَوْتُ قَوْمِي لَيْلًا وَنَهَارًا
“সে বলল—‘হে আমার প্রতিপালক! আমি তো আমার কওমকে রাত-দিন দাওয়াত দিয়েছি’।”
