নয়, বরং বিবেক ও যুক্তি দিয়ে সত্যকে চেনার ধর্ম।
সৃজন ও স্রষ্টা: মানুষ নিজে যা বানায়, তা কখনোই মানুষের উপাস্য হতে পারে না—এই সহজ সত্যটি অনুধাবন করা জরুরি।
উপকার-অপকারের মালিক আল্লাহ: মূর্তিও নয়, কোনো মানুষও নয়, বরং সব ধরনের ভালো-মন্দের চাবিকাঠি একমাত্র আল্লাহর হাতে।
দাওয়াতের কৌশল: ইবরাহীম (সা.) সরাসরি গালিগালাজ না করে প্রশ্নের মাধ্যমে তাঁদের নিজেদের ভুল তাঁদের দিয়েই স্বীকার করিয়েছিলেন।
মূর্তিপূজা বনাম তাওহীদ: মূর্তিপূজা হলো মানুষের তৈরি জড়ের কাছে দাসত্ব, আর তাওহীদ হলো অসীম ক্ষমতার অধিকারী স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ।
হযরত ইবরাহীম (সা.)-এর দাওয়াতী জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন এবং শিক্ষণীয় অধ্যায় হলো তাঁর আপন পিতাকে তাওহীদের পথে আহ্বান। পিতাকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি যে আদব, মমতা এবং ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিলেন, তা কিয়ামাত পর্যন্ত আগত সকল সন্তানের জন্য এক অনন্য পাথেয়। আপনার সংরক্ষিত তথ্য ও কাঠামো অনুযায়ী ‘পিতাকে দাওয়াত প্রদান’ শীর্ষক দশম অধ্যায়টি নিচে উপস্থাপন করছি।
অধ্যায়- ১০: পিতাকে দাওয়াত প্রদান
ইবরাহীম (সা.) যখন নবুওয়াত লাভ করেন, তখন তাঁর সবচেয়ে বড় বেদনার কারণ ছিল তাঁর পিতা আযরের মূর্তিপূজা। তিনি চাইতেন তাঁর পিতা যেন জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পান। দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি পিতাকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে ‘ইয়া আবাতি’ (হে আমার প্রিয় পিতা) বলে সম্বোধন করতেন। তিনি পিতাকে বুঝিয়েছিলেন যে, মূর্তিপূজা কেবল একটি অর্থহীন কাজই নয়, বরং এটি মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু শয়তানের অনুসরণ। কিন্তু তাঁর পিতা সত্য গ্রহণের পরিবর্তে তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার এবং পাথর মেরে হত্যা করার হুমকি দিয়েছিলেন। এই অধ্যায়ে আমরা পিতা ও পুত্রের সেই কথোপকথন এবং ইবরাহীম (সা.)-এর অতুলনীয় ধৈর্যের বিবরণ জানব।
মূর্তিপূজার অসারতা নিয়ে পিতাকে প্রশ্ন
ইবরাহীম (সা.) যুক্তি দিয়েছিলেন যে, মানুষের ইবাদত পাওয়ার যোগ্য কেবল তিনি, যিনি শোনেন এবং দেখেন।
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ يَا أَبَتِ لِمَ تَعْبُدُ مَا لَا يَسْمَعُ وَلَا يُبْصِرُ وَلَا يُغْنِي عَنكَ شَيْئًا
“যখন সে তাঁর পিতাকে বলল—‘হে আমার প্রিয় পিতা! আপনি কেন এমন কিছুর ইবাদত করেন যা শোনে না, দেখে না এবং আপনার কোনো কাজেই আসে না’?” [সূরাহ মারয়াম: ৪২]
জ্ঞানের মাধ্যমে পিতাকে সঠিক পথের আহ্বান
তিনি অহংকার না করে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তাঁর প্রাপ্ত ইলম বা জ্ঞানের কথা পিতার কাছে
