তারপর আল্লাহ তার তাওবাহ কবুল করলেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ৩৭]
শুক্রবারের বিশেষ গুরুত্ব ও আদম (আ.)
আদম (আ.)-এর সৃষ্টি, জান্নাতে প্রবেশ এবং পৃথিবীতে আগমন—সবই ছিল জুমুআর দিনে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ، وَفِيهِ أُدْخِلَ الْجَنَّةَ، وَفِيهِ أُخْرِجَ مِنْهَا…»
“আবূ হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমুআর দিনই সর্বোত্তম; এই দিনেই আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাঁকে সেখান থেকে বের (পৃথিবীতে প্রেরণ) করা হয়েছে…’।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৮৫৪]
অধ্যায়ের শিক্ষা:
শয়তানের কৌশল: শয়তান মানুষের কাছে হিতাকাঙ্ক্ষী সেজে আসে এবং আল্লাহর নামে শপথ করে ধোঁকা দেয়। তার মিষ্টি কথায় বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না।
পাপের প্রতিক্রিয়া: পাপাচার মানুষের পবিত্রতা ও সম্মান নষ্ট করে দেয়, যেমন আদম (আ.)-এর জান্নাতী পোশাক খুলে গিয়েছিল।
তাওবাহর দরজা: মানুষ হিসেবে ভুল হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু ভুলের ওপর অটল না থেকে আল্লাহর কাছে দ্রুত ক্ষমা চাওয়া এবং তাওবাহ করাই হলো প্রকৃত ‘আদমিয়াত’ বা মনুষ্যত্ব।
পৃথিবী একটি পরীক্ষাগার: আমাদের বর্তমান জীবন চিরস্থায়ী নয়, বরং এটি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের সফর। এই সফরে আল্লাহর হেদায়েত মেনে চলাই মুক্তির একমাত্র পথ।
আশার বাণী: আল্লাহ মানুষকে একা ছেড়ে দেননি; তিনি যুগে যুগে কিতাব ও রাসূল পাঠিয়ে হেদায়েতের পথ খোলা রেখেছেন।
নূহ (আঃ)
অধ্যায়- ১: নূহ (আ.) এর জাতির কার্যকলাপ
আদম (আ.)-এর পরবর্তী কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত মানুষ একত্ববাদের ওপর অটল ছিল। কিন্তু কালক্রমে মানুষের মধ্যে শিরক ও মূর্তিপূজার অনুপ্রবেশ ঘটে। ইতিহাসে নূহ (আ.)-এর জাতিই প্রথম যারা আল্লাহর সাথে শরিক সাব্যস্ত করে মূর্তিপূজা শুরু করেছিল। তারা মূলত তাদের পূর্ববর্তী কিছু নেককার মানুষের অতিভক্তি থেকে বিচ্যুত হয়ে তাঁদের প্রতিকৃতি বানিয়ে পূজা শুরু করে। নূহ (আ.) যখন তাঁদের এই ভয়াবহ পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করতে আসলেন, তারা চরম হঠকারিতা ও ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করল।
মূর্তিপূজার সূচনা ও তাদের মূর্তিসমূহ
নূহ (আ.)-এর জাতি তাদের জাতির পাঁচজন নেককার লোকের স্মরণে মূর্তি বানিয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত সেগুলোর ইবাদত শুরু করেছিল।
وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلَا
