কুরআনে বর্ণিত নবীদের জীবনী

« <
/ 118
> »

সত্ত্বেও ইবরাহীম (সা.) নিজের মনের প্রশান্তির জন্য মৃতকে জীবিত করার দৃশ্য দেখতে চেয়েছিলেন।

وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِي الْمَوْتَىٰ ۖ قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِن ۖ قَالَ بَلَىٰ وَلَٰكِن لِّيَطْمَئِنَّ قَلْبِي

“আর স্মরণ করো—যখন ইবরাহীম বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দেখান আপনি কীভাবে মৃতকে জীবিত করেন’। আল্লাহ বললেন, ‘তবে কি তুমি বিশ্বাস করো না?’ সে বলল, ‘অবশ্যই (বিশ্বাস করি), কিন্তু তা কেবল আমার হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য’।” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ২৬০]

ফিতরাত বা স্বভাবজাত ধর্মের ওপর জন্ম গ্রহণ সম্পর্কে হাদীস

ইবরাহীম (সা.)-এর মতো প্রতিটি শিশু একত্ববাদের বীজ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, যা রাসূলুল্লাহ (সা.) এভাবে বর্ণনা করেছেন—

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ مَوْلُودٍ إِلَّا يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ، فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ أَوْ يُنَصِّرَانِهِ أَوْ يُمَجِّسَانِهِ…»

“আবূ হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত—রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘প্রতিটি নবজাতক ফিতরাত (ইসলামী স্বভাব)-এর ওপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি, খ্রিষ্টান বা অগ্নিপূজক হিসেবে গড়ে তোলে…’।” [সহীহুল বুখারী, হাদীস: ১৩৫৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৬৫৮]

অধ্যায়ের শিক্ষা:

চিন্তাশক্তি ও বিবেক: আল্লাহ মানুষকে যে বিবেক দিয়েছেন, তা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে সত্যের সন্ধান পাওয়া সহজ হয়।

সৃষ্ট জগত ও স্রষ্টা: আসমান-জমিন, চন্দ্র-সূর্য সব আল্লাহর নিদর্শন। এই নিদর্শনগুলো দেখে এদের স্রষ্টাকে চেনা মুমিনের প্রধান কাজ।

যুক্তি দিয়ে দাওয়াত: ইবরাহীম (সা.) সরাসরি মূর্তিপূজার সমালোচনা না করে প্রথমে নক্ষত্র ও চাঁদের উদয়-অস্ত দিয়ে মানুষের ভুল প্রমাণ করেছিলেন, যা দাওয়াতের এক অনন্য পদ্ধতি।

হৃদয়ের প্রশান্তি (ইতমিনান): ঈমান আনার পরেও জ্ঞানের গভীরতা ও প্রশান্তি বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর নিদর্শন নিয়ে চিন্তা করা বা প্রশ্ন করা দোষের কিছু নয়।

শিরক থেকে মুক্তি: সৃষ্টির কোনো কিছুই স্রষ্টা হতে পারে না—এই বিশ্বাসই হলো প্রকৃত ইসলাম।

অধ্যায়- ৪: ইবরাহীম (সা.) এর আকীদা-বিশ্বাস

ইবরাহীম (সা.)-এর আকীদা বা বিশ্বাসের মূল ভিত্তি ছিল ‘হানীফিয়্যাত’ বা একনিষ্ঠভাবে এক আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া। এমন এক অন্ধকার সময়ে তিনি তাওহীদের আলো জ্বালিয়েছিলেন যখন সারা বিশ্ব শিরকের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। তাঁর বিশ্বাস ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ—তিনি জানতেন যে উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা কেবল মহান আল্লাহর। তিনি সৃষ্টির কোনো বস্তুকে স্রষ্টার সমতুল্য মনে করতেন না এবং পার্থিব কোনো শক্তির ভয়ে

« <
/ 118
> »