হূদ (সা.)-এর দাওয়াতের জবাবে তাঁর জাতির নেতারা তাঁকে চরমভাবে অপমান করে।
قَالَ الْمَلأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَوْمِهِ إِنَّا لَنَرَاكَ فِي سَفَاهَةٍ وَّإِنَّا لَنَظُنُّكَ مِنَ الْكَاذِبِينَ
“তাঁর কওমের কাফির নেতারা বলেছিল—‘নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে নির্বুদ্ধিতার মধ্যে দেখতে পাচ্ছি এবং অবশ্যই আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করি’।” [সূরাহ আল-আ‘রাফ: ৬৬]
হূদ (সা.)-এর প্রজ্ঞাপূর্ণ উত্তর
অপমানিত হওয়ার পরেও হূদ (সা.) রাগান্বিত না হয়ে অত্যন্ত নম্রভাবে নিজের নবুওয়াতের সত্যতা পেশ করেন।
قَالَ يَا قَوْمِ لَيْسَ بِي سَفَاهَةٌ وَلَٰكِنِّي رَسُولٌ مِّن رَّبِّ الْعَالَمِينَ। أُبَلِّغُكُمْ رِسَالَاتِ رَبِّي وَأَنَا لَكُمْ نَاصِحٌ أَمِينٌ
“সে বলল—‘হে আমার কওম! আমার মধ্যে কোনো নির্বুদ্ধিতা নেই; বরং আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একজন রাসূল। আমি তোমাদের কাছে আমার প্রতিপালকের বাণীসমূহ পৌঁছে দিচ্ছি এবং আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত হিতাকাঙ্ক্ষী’।” [সূরাহ আল-আ‘রাফ: ৬৭-৬৮]
অলৌকিক নিদর্শনের দাবি ও হঠকারিতা
আ‘দ জাতি হূদ (সা.)-এর কাছে এমন কোনো নিদর্শন চেয়েছিল যা তাঁদের মূর্তিদের ওপর প্রাধান্য পাবে, কিন্তু তারা সত্য দেখতে চায়নি।
قَالُوا يَا هُودُ مَا جِئْتَنَا بِبَيِّنَةٍ وَمَا نَحْنُ بِتَارِكِي آلِهَتِنَا عَن قَوْلِكَ وَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ
“তারা বলল—‘হে হূদ! তুমি আমাদের কাছে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসোনি; আর আমরা তোমার কথায় আমাদের উপাস্যগুলোকে ত্যাগ করব না এবং আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনব না’।” [সূরাহ হূদ: ৫৩]
নবীগণের দাওয়াতের সারমর্ম সম্পর্কে হাদীস
রাসূলুল্লাহ (সা.) সকল নবীর দাওয়াতের লক্ষ্য সম্পর্কে এক অভিন্ন শিক্ষা দিয়েছেন, যা হূদ (সা.)-এর ক্ষেত্রেও সত্য ছিল।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «…مَا مِنَ الأَنْبِيَاءِ نَبِيٌّ إِلَّا أُعْطِيَ مِنَ الآيَاتِ مَا مِثْلُهُ أُومِنَ، أَوْ آمَنَ، عَلَيْهِ البَشَرُ، وَإِنَّمَا كَانَ الَّذِي أُوتِيتُ وَحْيًا أَوْحَاهُ اللَّهُ إِلَيَّ…»
“আবূ হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: ‘…এমন কোনো নবী নেই যাঁকে এমন কিছু নিদর্শন দেওয়া হয়নি, যা দেখে মানুষ ঈমান আনে। তবে আমাকে যা দেওয়া হয়েছে তা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ওহী…’।” [সহীহুল বুখারী, হাদীস: ৪৯৮১; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৫২]
অধ্যায়ের শিক্ষা:
ধৈর্য ও নম্রতা: দাওয়াতী ময়দানে গালি বা অপবাদ শুনে বিচলিত না হয়ে হূদ (সা.)-এর মতো নম্রভাবে সত্য তুলে ধরতে হবে।
হিতাকাঙ্ক্ষী হওয়া: নবীদের মূল লক্ষ্য মানুষের অনিষ্ট
