بَطَشْتُمْ جَبَّارِينَ
“আর যখন তোমরা আঘাত করো (কাউকে আক্রমণ করো), তখন তা স্বৈরাচারী ও নিষ্ঠুর হয়েই করো।” [সূরাহ আশ-শুয়ারা: ১৩০]
পূর্ববর্তীদের রীতির দোহাই দেওয়া
যখন হূদ (সা.) তাঁদেরকে আযাবের ভয় দেখাতেন, তারা সেটিকে কেবল ‘পূর্ববর্তীদের গালগল্প’ বলে উড়িয়ে দিত।
إِنْ هَٰذَا إِلَّا خُلُقُ الْأَوَّلِينَ। وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ
“এটি তো কেবল পূর্ববর্তীদের অভ্যাস (বা গালগল্প) ছাড়া আর কিছু নয়। আর আমরা শাস্তিপ্রাপ্তও হবো না।” [সূরাহ আশ-শুয়ারা: ১৩৭-১৩৮]
অধ্যায়ের শিক্ষা:
শক্তির অপব্যবহারের কুফল: দৈহিক শক্তি ও কৌশল আল্লাহ মানুষকে দান করেন দুর্বলকে সাহায্য করার জন্য, যুলুম বা অহংকার করার জন্য নয়।
বিলাসিতার মোহ: চিরস্থায়ী অট্টালিকা নির্মাণের নেশা মানুষকে আখেরাতের কথা ভুলিয়ে দেয়। আদ জাতির এই বিলাসিতা তাদের ধ্বংসের অন্যতম কারণ ছিল।
অন্ধ অনুকরণ: পিতৃপুরুষের দোহাই দিয়ে ভুল পথে চলা বা শিরকে লিপ্ত থাকা সুস্থ বিবেক ও ঈমানের পরিপন্থী।
আল্লাহর সর্বজনীন আইন: কোনো জাতি যখন অহংকার করে বলে—‘আমাদের চেয়ে শক্তিশালী কে?’, তখন আল্লাহ তাদের তুচ্ছ বস্তুর (যেমন বাতাস) মাধ্যমে ধ্বংস করে তাঁর শক্তি প্রদর্শন করেন।
নৈতিক অবক্ষয়: শিরকের সাথে যখন নিষ্ঠুরতা ও স্বৈরাচারী মনোভাব যুক্ত হয়, তখন সেই জাতির ওপর আল্লাহর রহমত উঠে যায়।
অধ্যায়- ৩: নবীর দাওয়াত ও জাতির আচরণ
হূদ (সা.) ছিলেন আ‘দ জাতিরই একজন সদস্য, যাকে আল্লাহ তা‘আলা নবুওয়াত দিয়ে পাঠিয়েছেন। তিনি তাঁর জাতিকে মূর্তিপূজা ছেড়ে এক আল্লাহর আনুগত্যের এবং মানুষের ওপর যুলুম বন্ধ করার দাওয়াত দেন। তিনি তাঁদেরকে আল্লাহর নেয়ামতসমূহ স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাওবাহর আহ্বান জানান। কিন্তু আ‘দ জাতির নেতৃস্থানীয় লোকেরা তাঁকে ‘নির্বোধ’ ও ‘মিথ্যাবাদী’ বলে অপবাদ দেয়। তারা মনে করেছিল তাঁদের বিশাল অট্টালিকা ও দৈহিক শক্তি তাঁদেরকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করবে।
তাওহীদ ও তাকওয়ার দাওয়াত
হূদ (সা.) অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তাঁর জাতিকে এক আল্লাহর ইবাদতের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
وَإِلَىٰ عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا ۗ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ ۖ أَفَلَا تَتَّقُونَ
“আর আ‘দ জাতির কাছে আমি তাঁদের ভাই হূদকে পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল—‘হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো সত্য উপাস্য নেই; তবুও কি তোমরা ভয় করবে না’?” [সূরাহ আল-আ‘রাফ: ৬৫]
জাতির পক্ষ থেকে ‘নির্বোধ’ ও ‘মিথ্যাবাদী’ হওয়ার অপবাদ
