নতুন করে কেউ ঈমান না আনার ঘোষণা
আল্লাহ তা‘আলা নূহ (সা.)-কে ওহীর মাধ্যমে নিশ্চিত করলেন যে, হেদায়েতের সুযোগ সমাপ্ত হয়েছে।
وَأُوحِيَ إِلَىٰ نُوحٍ أَنَّهُ لَن يُؤْمِنَ مِن قَوْمِكَ إِلَّا مَن قَدْ آمَنَ فَلَا تَبْتَئِسْ بِمَا كَانُوا يَفْعَلُونَ
“আর নূহ এর প্রতি ওহী পাঠানো হলো যে—‘তোমার কওমের মধ্যে যারা ইতোমধ্যে ঈমান এনেছে তারা ছাড়া আর কেউ ঈমান আনবে না; সুতরাং তারা যা করে তার জন্য তুমি দুঃখ করো না’।” [সূরাহ হূদ: ৩৬]
কিশতী নির্মাণ ও আযাবের চূড়ান্ত প্রস্তুতি
আল্লাহ নূহ (সা.)-কে আযাব থেকে বাঁচার পথ বাতলে দিলেন এবং যালিমদের জন্য সুপারিশ করতে নিষেধ করলেন।
وَاصْنَعِ الْفُلْكَ بِأَعْيُنِنَا وَوَحْيِنَا وَلَا تُخَاطِبْنِي فِي الَّذِينَ ظَلَمُوا ۚ إِنَّهُم مُّغْرَقُونَ
“আর তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার ওহী অনুযায়ী একটি কিশতী (নৌকা) তৈরি করো এবং যারা যুলুম করেছে তাদের ব্যাপারে আমাকে কিছু বলো না; নিশ্চয়ই তারা নিমজ্জিত হবে (ডুবে মরবে)।” [সূরাহ হূদ: ৩৭]
নূহ (সা.)-এর দাওয়াতের সত্যতা
রাসূলুল্লাহ (সা.) নূহ (সা.)-এর এই চূড়ান্ত সতর্কবাণী পৌঁছে দেওয়া সম্পর্কে উম্মতকে জানিয়েছেন।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «…فَيَقُولُ اللَّهُ لِنُوحٍ: مَنْ يَشْهَدُ لَكَ؟ فَيَقُولُ: مُحَمَّدٌ وَأُمَّتُهُ، فَتَشْهَدُونَ أَنَّهُ قَدْ بَلَّغَ…»
“আবূ সা‘ঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘…আল্লাহ নূহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করবেন—তোমার পক্ষে কে সাক্ষ্য দেবে? তিনি বলবেন—মুহাম্মাদ ও তাঁর উম্মত। অতঃপর তোমরা (উম্মতে মুহাম্মাদী) সাক্ষ্য দেবে যে, নিশ্চয়ই তিনি (বাণী) পৌঁছে দিয়েছিলেন…’।” [সহীহুল বুখারী, হাদীস: ৭৩৪৯]
অধ্যায়ের শিক্ষা:
পরীক্ষার সমাপ্তি: আল্লাহর দেওয়া দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর একসময় তওবাহর দরজা বন্ধ হয়ে যায় এবং আযাব অনিবার্য হয়ে পড়ে।
দোয়ার শক্তি: নবীগণ যখন নিরাশ হয়ে দোয়া করেন, তখন আসমান ও জমিনের সকল শক্তি আল্লাহর আদেশে সক্রিয় হয়ে ওঠে।
পরবর্তী প্রজন্মের চিন্তা: নূহ (সা.)-এর দোয়ায় কেবল তৎকালীন কাফিরদের কথা ছিল না, বরং পরবর্তী বংশধররা যেন পথভ্রষ্ট না হয় সেই সচেতনতাও ছিল।
কৌশল অবলম্বন: কেবল আল্লাহর ওপর ভরসা করে বসে থাকলেই হয় না, বরং আযাব থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর নির্দেশিত কৌশল (কিশতী নির্মাণ) বাস্তবায়ন করাও একটি ইবাদত।
যালিমদের করুণ দশা: আল্লাহ যখন কাউকে ডুবিয়ে মারার ফয়সালা করেন, তখন নবীর
