কুরআনে বর্ণিত নবীদের জীবনী

« <
/ 118
> »

৪৭১২; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৯৪]

অধ্যায়ের শিক্ষা:

অদম্য অধ্যবসায়: দ্বীনের কাজে সাফল্য না এলেও বা মানুষ সাড়া না দিলেও কাজ চালিয়ে যাওয়া হলো নবীদের চিরন্তন সুন্নাহ।

দাওয়াতের সৃজনশীলতা: মানুষকে সত্য বোঝানোর জন্য সব ধরনের বৈধ কৌশল (প্রকাশ্য, গোপন, নরম ও কঠোর) প্রয়োগ করা উচিত।

শুকরগুজার বান্দা হওয়া: নূহ (সা.) বিপদের মুখেও আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করতেন, যা তাঁকে ‘আবদে শাকুর’ উপাধি এনে দিয়েছিল।

ধৈর্যের কোনো সীমা নেই: সাড়ে নয়শত বছরের দাওয়াত শেখায় যে, মুমিন ব্যক্তি কখনোই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে প্রচেষ্টা বন্ধ করে না।

সত্যের সাক্ষী হওয়া: নবীগণ বারবার বুঝিয়েছিলেন বলেই কিয়ামতের দিন কাফিররা কোনো অজুহাত পেশ করতে পারবে না।

অধ্যায়- ৫: আযাবের সতর্কবাণী

নূহ (সা.) যখন তাঁর জাতির হেদায়েতের ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে পড়লেন এবং তারা প্রকাশ্যে আল্লাহর আযাবকে ত্বরান্বিত করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল, তখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কাছে আসন্ন মহাপ্লাবনের ঘোষণা দিলেন। আল্লাহ তাঁকে জানিয়ে দিলেন যে, যারা ইতোমধ্যে ঈমান এনেছে তারা ছাড়া আর কেউ নতুন করে ঈমান আনবে না। নূহ (সা.)-এর হৃদয়ে জাতির প্রতি যে হিতাকাঙ্ক্ষা ছিল, তা তাদের চরম ঔদ্ধত্যের কারণে আযাবের প্রার্থনায় রূপ নিল।

কাফিরদের পক্ষ থেকে আযাব নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ

দীর্ঘ দাওয়াতের পর কাফিররা উপহাস করে নূহ (সা.)-কে আল্লাহর আযাব নিয়ে আসার জন্য বলেছিল।

قَالُوا يَا نُوحُ قَدْ جَادَلْتَنَا فَأَكْثَرْتَ جِدَالَنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ

“তারা বলল—‘হে নূহ! তুমি আমাদের সাথে বিবাদ করেছো এবং অনেক বেশি বিবাদ করেছো; সুতরাং তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে আমাদের যে (আযাবের) ভয় দেখাচ্ছো তা নিয়ে আসো’।” [সূরাহ হূদ: ৩২]

নূহ (সা.)-এর দোয়া ও কাফিরদের ধ্বংসের প্রার্থনা

যখন জাতি তাঁকে পাথর মারার হুমকি দিল এবং হেদায়েতের পথ রুদ্ধ করে দিল, তখন তিনি আল্লাহর কাছে ফয়সালা চাইলেন।

رَّبِّ لَا تَذَرْ عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْكَافِرِينَ دَيَّارًا  إِنَّكَ إِن تَذَرْهُمْ يُضِلُّوا عِبَادَكَ وَلَا يَلِدُوا إِلَّا فَاجِرًا كَفَّارًا

“(নূহ বললেন) ‘হে আমার প্রতিপালক! আপনি পৃথিবীতে কাফিরদের মধ্য থেকে কোনো গৃহবাসীকে অবশিষ্ট রাখবেন না। নিশ্চয়ই আপনি যদি তাদের ছেড়ে দেন, তবে তারা আপনার বান্দাদের পথভ্রষ্ট করবে এবং তারা পাপাচারী ও কাফির ছাড়া অন্য কোনো সন্তান জন্ম দেবে না’।” [সূরাহ নূহ: ২৬-২৭]

« <
/ 118
> »