(সা.)-এর বিরহে চোখের জ্যোতি হারানো
বিনয়মীনকে হারানোর খবর পাওয়ার পর ইয়াক্বূব (সা.)-এর মনে ইউসুফের স্মৃতি তীব্রভাবে ফিরে এল এবং তিনি কান্নায় ভেঙে পড়লেন।
وَتَوَلَّىٰ عَنْهُمْ وَقَالَ يَا أَسَفَىٰ عَلَىٰ يُوسُفَ وَابْيَضَّتْ عَيْنَاهُ مِنَ الْحُزْنِ فَهُوَ كَظِيمٌ
“আর সে তাঁদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল—‘আফসোস ইউসুফের জন্য!’ আর দুঃখে তাঁর চোখ দুটি সাদা হয়ে গেল (দৃষ্টিশক্তি হারালেন) এবং সে ছিল অসহ্য যাতনা সংবরণকারী।” [সূরাহ ইউসুফ: ৮৪]
আল্লাহর কাছে দুঃখ নিবেদন
ছেলেরা যখন তাঁকে অতিরিক্ত শোক করতে বারণ করল, তখন তিনি আল্লাহর ওপর তাঁর পূর্ণ তাওয়াক্কুলের কথা প্রকাশ করলেন।
قَالَ إِنَّمَا أَشْكُو بَثِّي وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ وَأَعْلَمُ مِنَ اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ
“সে বলল—‘আমি তো আমার অসহনীয় বেদনা ও দুঃখ কেবল আল্লাহর কাছেই নিবেদন করছি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি এমন কিছু জানি যা তোমরা জানো না’।” [সূরাহ ইউসুফ: ৮৬]
আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হওয়ার নির্দেশ
চক্ষু হারানোর পরও তিনি সন্তানদের আবারও ইউসুফ ও তাঁর ভাইকে খুঁজতে পাঠালেন এবং আল্লাহর রহমতের ওপর আস্থা রাখতে বললেন।
يَا بَنِيَّ اذْهَبُوا فَتَحَسَّسُوا مِن يُوسُفَ وَأَخِيهِ وَلَا تَيْأَسُوا مِن رَّوْحِ اللَّهِ ۖ إِنَّهُ لَا يَيْأَسُ مِن رَّوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ
“হে আমার পুত্রগণ! তোমরা যাও এবং ইউসুফ ও তাঁর ভাইয়ের সন্ধান করো; আর তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই কাফির সম্প্রদায় ছাড়া আল্লাহর রহমত থেকে কেউ নিরাশ হয় না’।” [সূরাহ ইউসুফ: ৮৭]
সবর ও কান্নার মর্যাদা সম্পর্কে হাদীস
ইয়াক্বূব (সা.)-এর এই কান্না ছিল দয়া ও মায়ার বহিঃপ্রকাশ, যা আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয় নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পুত্র ইবরাহীমের মৃত্যুর সময়ও তিনি অশ্রুপাত করেছিলেন।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ قَالَ: «تَدْمَعُ العَيْنُ وَيَحْزَنُ القَلْبُ، وَلاَ نَقُولُ إِلَّا مَا يَرْضَى رَبُّنَا، وَإِنَّا بِفِرَاقِكَ يَا إِبْرَاهِيمُ لَمَحْزُنُونَ»
“আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত—রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘চোখ অশ্রু সজল হয় এবং হৃদয় ব্যথিত হয়; কিন্তু আমরা মুখে এমন কিছুই বলব না যা আমাদের প্রতিপালক অপছন্দ করেন। আর হে ইবরাহীম! তোমার বিচ্ছেদে আমরা অবশ্যই ব্যথিত’।” [সহীহুল বুখারী, হাদীস: ১৩০৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৩১৫]
দীর্ঘ বিরহের পর আগাম সুসংবাদ
ইয়াক্বূব
