বর্ণিত, আর এর সনদে একজন দুর্বল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি রয়েছে, তাই আমরা এ হাদিসটি গ্রহণ করতে পারি না। এছাড়াও আরো একটি ব্যাপার হলো, তাঁর পরবর্তীতে যারাই এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তারা সকলেই ইরাকের, আর এই ইরাকেই যখন তিনি বার্ধক্যে উপনীত হন, তাঁর স্মৃতিশক্তি দূর্বল হয়ে পড়ে।
এ দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন এই কারণেই যে, কারো যদি বার্ধক্যে তাঁর স্মৃতিশক্তি সবল না থাকে, তাহলে জারাহ ও তাদিল শাস্ত্রমতে তাঁর সমস্ত হাদিস অগ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। আমরা যদি জানতে পারি যে সে কখন ও কোথায় স্মৃতিভ্রমের শিকার হয়েছেন, যেমনটি তাদের দাবি, ইরাকে তাঁর স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে আমরা তাঁর থেকে ইরাকে বর্ণিত সমস্ত হাদিস বাতিল বলে গণ্য করব। আর যেহেতু মদিনায় তাঁর স্মৃতিশক্তি সবল ছিল, তাই আমরা তাঁর মদিনার সকল হাদিস গ্রহণ করব। আচ্ছা, আমরা এসব কিভাবে জানব? আমরা এটা জানতে পারি, মদিনা ও ইরাকের হাদিস বর্ণনাকারীদের কাছে থেকে। তাদের দাবি যে, হিশাম বিন উরওয়া থেকে যারাই এই হাদিস বর্ণনা করেছেন তারা সকলেই ইরাকের অধিবাসী, এটাই তাদের যুক্তি। আর তাদের অভিযোগ হলো, হিশাম বিন উরওয়া বার্ধক্যে উপনীত হয়ে যে হাদিস তিনি বর্ণনা করেছেন সেসব ছিল ইরাকে।
যদি পুরোধা ও প্রবীণ হাফেজে হাদিস ও মুহাদ্দিসগণ যেমন আল বাজ্জার যিনি দশ লাখ হাদিস মুখস্ত করেছেন বা ইমাম আহমাদ বিন হাম্বালের মত মহান কোন মুহাদ্দিস এই অভিযোগ তুলতেন, তাহলে আপনি এ ধরনের একটি অভিযোগকে সত্য বলে ধরে নিতে পারতেন। জারাহ ও তাদিল বা হাদিসের মান নির্ণয় ও শ্রেণীবিভাজন এমন একটি জ্ঞান যার সাথে তীরবিহীন সমুদ্রের কেবল তুলনা করা যেতে পারে। যদি একবার সে সাগরে আপনি ডুব দেন, তাহলে সে অথৈ সাগরে আপনি সাঁতার কাটতেই থাকবেন, সাঁতার কাটতেই থাকবেন, কোন কূলকিনারা পাবেন না। তাই চিন্তা করে দেখুন, হাদিস শাস্ত্রের এই শাখাটি কতটা বিশাল ও বিস্তৃত।
