আয়েশাহ’র বিয়ে ও বাল্যবিবাহ

« <
/ 9
> »

এরপর তারা প্রাচ্যবিদদের ডাক দিয়ে বলে শোন, তোমরা যে হাদিস আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছ, সেটি যয়িফ, নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও নয় বছরের একটি মেয়েকে বিয়ে করতে পারেন না। তারা এসব করে মনে করে যে এভাবে ব্যাপারটা সমাধান হয়ে যাবে এটি একটি বশ্যতাসুলভ ও হীনমন্যতামূলক চিন্তাপদ্ধতি, তাদের এরকম হীনমন্যতার কারণ হলো, যে শিক্ষা সবচেয়ে প্রামাণ্য ও যথার্থ মূল্যবোধের উপর দাঁড়িয়ে সেই ইসলামি শিক্ষা নিয়ে তাদের হৃদয়ে গৌরববোধের অনুপস্থিতি। আমি বলি, আল্লাহর কসম, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে ছয় বছর বয়সে বিয়ে করেন এবং নয় বছর বয়সে তাকে ঘরে তুলে আনেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কমবেশি নয় বছর বয়সে তাঁর সংসারে আসেন।

বুখারি শরিফে হাদিসটির সনদ এভাবে বর্ণিত আছে হিশাম বিন উরওয়া হাদিসটি তাঁর পিতা উরওয়া বিন যুবায়েরের থেকে বর্ণনা করেন, যিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ভাতিজা ছিলেন। আর উরওয়া তিনি হাদিসটি সরাসরি তাঁর ফুফু আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন।
বুখারির হাদিস নিয়ে তাদের আপত্তি; তারা বলেন, এ হাদিসটি সম্পর্কে প্রথম আপত্তি হলো, এ হাদিসটি উরওয়াই একমাত্র আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন, অন্য কেউই এই হাদিসটি শুনেননি, তাহলে এটা কিভাবে বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে? দ্বিতীয়ত, একমাত্র হিশামই এ হাদিসটি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনিও একাই এটা বর্ণনা করেন, আর কেউ এ হাদিসটি বর্ণনা করেননি, সুতরাং এটা বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না, একজন থেকে একজন, তার থেকেও একজন।

এছাড়াও তৃতীয় আপত্তি যেটি সবচেয়ে বড় আপত্তি সেটি হলো, তারা বলেন যে, হিশাম বিন উরওয়া ছিলেন বার্ধক্যজনিত স্মৃতিবিকল রাবি। তারা দাবি করেন, তিনি যখন জীবনের শেষের দিকে ইরাকে চলে যান, তখন বার্ধক্যের কারণে তাঁর স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। ইমাম মালিক রহ. তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণ করতেন না। সুতরাং এই হাদিসটি যেহেতু গরিব সূত্রে (যে সনদে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হাদিস বর্ণনাকারী সংখ্যা একজন হয়ে থাকে)

« <
/ 9
> »